book_image

দ্য ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টর (হার্ডকভার)

by বেঞ্জামিন গ্রাহাম

Price: TK. 600

TK. 800 (You can Save TK. 200)
দ্য ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টর

দ্য ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টর (হার্ডকভার)

দূরদর্শী বিনিয়োগ ভিত্তিক অন্যতম শ্রেষ্ঠ বই

5 Ratings / 3 Reviews

TK. 600 TK. 800 (You can Save 25%)

tag_icon

পয়েন্ট জমান, ক্যাশ করুন, পছন্দের পণ্য কিনুন। বিস্তারিত

tag_icon

৭৭১ ৳+ অর্ডারে নিশ্চিত লাল-সবুজের রিস্ট ব্যান্ড

tag_icon

১৬২৬৳+ অর্ডারে নিশ্চিত কাস্টমাইজড চাবির রিং

tag_icon

২৬৭১ ৳+ অর্ডারে নিশ্চিত বিজয় স্পেশাল নোটবুক

Product Specification & Summary

এই বইয়ের উদ্দেশ্য হল বিনিয়োগের পলিসিকে সাধারণ মানুষের উপযোগী করে সরবরাহ করা। নিরাপত্তা, সুরক্ষিত করার ব্যাপারে তুলনামূলকভাবে অল্পই এখানে বলা হয়েছে; মূলত: জোর দেয়া হয়েছে বিনিয়োগের নীতিমালা ও বিনিয়োগকারীর আচরণের উপর। সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তার কিছু তুলনামূলক লিস্ট এখানে দেয়া হয়েছে- নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ লিস্টের পাশাপাশি- যাতে কমন স্টক বাছাইয়ের জন্য জরুরী উপাদানগুলোতে দক্ষতা জন্মে।

কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা অর্থনৈতিক মার্কেটের ঐতিহাসিক প্যাটার্ণ নিয়ে আলোচনা করব, কিছু কিছু ক্ষেত্রে কয়েক শতাব্দী পিছন ফিরেও দেখব। বুদ্ধিমত্তার সাথে বিনিয়োগ করতে হলে আপনাকে বেশ ভালোভাবে জানতে হবে যে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বন্ড ও স্টকগুলো কি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। ওয়াল স্ট্রীটের ক্ষেত্রে সামতায়ানার সেই বিখ্যাত সতর্কবাণীর চেয়ে বেশি সত্য বক্তব্য ও অধিকতর প্রযোজ্য বাণী আর কিছু নেই- “যারা অতীত ভুলে যায়, তারা এর পুনরাবৃত্তি করে।”

আমাদের এই বইটি বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আর আমাদের প্রথম কাজ হল কোনরকম পার্থক্য না রেখে এই বিষয়ে স্পষ্টতা ও জোর প্রদান করা। শুরুতে আমরা একথা বলতে চাই যে বইটি ‘এক মিলিয়ন টাকা বানানোর’ বই নয়। ওয়াল স্ট্রীট বা অন্য কোথাও ধনী হওয়ার নিশ্চিত ও সহজ কোন পথ নেই। এইমাত্র যা বললাম, তার সপক্ষে সামান্য অর্থনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরা যায়, বিশেষত: তখনদার সময়ের যখন একের অধিক নৈতিকতা এতে খুঁজে পাওয়া যেত।

১৯২৯ সালে জন জে. রাসকভ, যিনি জাতির ও ওয়াল স্ট্রীটের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, ‘লেডিস হোম জার্নাল’এ পুঁজিবাদের আশীর্বাদকে প্রশংসা করে একটি আর্টিকেল লিখেছিলেন, যার টাইটেল ছিল “সকলেই ধনী হতে চায়”। তার থিসিস ছিল যে ভালো একটি স্টকে মাসে ১৫ ডলার জমা করলে, লভ্যাংশকে পুন: বিনিয়োগ করে ২০ বছরে ৮০,০০০ ডলার বানানো যায়, যেখানে মূল বিনিয়োগ মাত্র ৩৬০০ ডলার। জেনারেল মটরস্ টাইফুন যদি সত্যি বলে থাকেন, তবে অর্থ উৎপাদনের এটি একটি সহজ পথ। তিনি কতটুকু ঠিক বলেছিলেন? আমাদের হিসাবে-জওজোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ এর ৩০ স্টকের উপর ভিত্তি করে ধরলে, রাসকভের পরামর্শ যদি ১৯২৯-১৯৪৮ সালের মধ্যে হয়, তবে ১৯৪৯ সালের শুরুতে বিনিয়োগকারীকে কমপক্ষে ৮৫০০ ডলার দিয়ে শুরু করতে হয়েছে।

সেই বিখ্যাত ব্যক্তির কথিত ৮০,০০০ ডলার থেকে এই অংক অনেক দূরে এবং এতে বুঝা যায় যে এসব আশাব্যঞ্জক ভবিষ্যদ্বাণী ও নিশ্চয়তার উপর কতখানি নির্ভর করা যায়। কিন্তু পাশাপাশি আমাদের মনে রাখা উচিত যে ২০ বছরের এই অপারেশনে যে লাভ পাওয়া যায়, তা বার্ষিক শতকরা ৮ ভাগ হিসাবের চেয়ে বেশি এবং এটি ঐ সত্যকে ভুল প্রমাণ করে যে বিনিয়োগকারী ডিজে আইএ থেকে ৩০০ দিয়ে কিনেছিল এবং ১৯৪৮ সালের ১৭৭ ক্লোজিং লেভেলে এসে থেমেছিল। এই রেকর্ড সম্ভবত: নিয়মিত মাসিক ক্রয়ের ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যেটাকে ‘ডলার মূল্যে গড়করণ’ বলা হত।

যদিও আমাদের বইয়ে ফটকাবাজদের কোন উল্লেখ নেই, তার মানে এই নয় যে বইটা ওদের জন্য যারা মার্কেটে ব্যবসা করে। এদের বেশিরভাগই বেচাকেনার সময় নির্ধারণের জন্য চার্ট বা অন্য কোন মেকানিক্যাল মাধ্যমের সাহায্য নেয়। এইসব তথাকথিত মাধ্যমগুলো একটি প্রক্রিয়াই ব্যবহার করে আর তা হলো স্টক বা মার্কেট উপরের দিকে উঠলে স্টক কিনতে হয় আর স্টক নেমে গেলে বিক্রি করে দিতে হয়।

প্রকৃত ব্যবসায়িক চিন্তাধারার পুরো উল্টো ব্যাপারটি আর ওয়াল স্ট্রীটের বাণিজ্যিক সাফল্য এভাবে স্থায়িত্ব পেতে পারে না। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের নিজস্ব স্টক-মার্কেট অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ থেকে আমরা এমন একজন মানুষকেও বের করতে পারব না, যে এই প্রক্রিয়ায় ‘মার্কেট অনুসরণ’ করে নিরবচ্ছিন্নভাবে অর্থ আয় করেছে। একথা ঘোষণা করতে আমরা বিন্দুমাত্রও দ্বিধা করবো না যে এই প্রক্রিয়া যতটুকু জনপ্রিয়, ঠিক ততটুকু বিভ্রান্তিকর। আমরা এইমাত্র যা বললাম, সেটিকে ব্যাখ্যা করব স্টক মার্কেটের ব্যবসা সম্পর্কে বিখ্যাত ডাও থিওরি আলোচনা করার সময়, যদিও সেটিকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।

যদিও প্রথম প্রকাশ ১৯৪৯ সালে হয়েছিল, ‘দ্য ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টর’ এর রিভিশান বের হতে প্রায় পাঁচ বছর লেগেছিল। চলতি সংস্করণে আমরা ১৯৬৫ সালে লিখিত বিষয়গুলোর সাথে নতুন মাত্রা যোগ করব। সেগুলো হল :
১। উচ্চমানের বন্ডে সুদের হারে অভূতপূর্ব অগ্রগতি হল।
২। ১৯৭০ সালের মে মাসের শেষদিকে শীর্ষস্থানীয় কমন স্টকগুলোর মূল্যমান শতকরা ৩৫ ভাগ হ্রাস পেয়েছিল। ৩০ বছরের মধ্যে এটিই ছিল চরম অবনতি। (নিম্নমানের অসংখ্য স্টক এর চেয়ে ভালো পর্যায়ে ছিল)
৩। পাইকারী ও খুচরা মূল্য ক্রমাগত: বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ১৯৭০ সালে সাধারণ ব্যবসা যখন পতনের মুখে দাঁড়িয়ে, তখনও স্টক গতি লাভ করেছিল।
৪। বিভিন্ন রকম কর্পোরেশন, যৌথ বাণিজ্য ও এধরনের অন্যান্য ব্যবসা ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত দ্রুত উন্নতি করছিল। (এতে কিছু কৌশলের উদ্ভাবন হয়েছিল, যেমন- ‘লেটার স্টক, স্টক-অপশন ওয়ারেন্ট এর বিস্তার, বেনাম, বিদেশী ব্যাংকের ব্যবহার ও অন্যান্য)
৫। অনেক শক্তিশালী কোম্পানী স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী ঋণের কারণে দেউলিয়া হল এবং ওয়াল স্ট্রীটের হাউজগুলোতে আর্থিক সংকটজনিত নানা সমস্যা তৈরি হল।
৬। বিনিযোগকৃত ফান্ডের প্রশাসন ও ব্যাংক কর্তৃক পরিচালিত ট্রাষ্ট ফান্ডে ‘পারফরমেন্স’ প্রকাশের সংযোজন হওয়াতে অস্থিরতার জন্ম হল। এইসব বিষয়গুলিকে আমরা সতর্কতার সাথে বিবেচনা করব এবং আমাদের পুরনো সংস্করণ থেকে খানিকটা ভিন্নভাবে এগুলোর সমাপ্তি টানব আর প্রয়োজনীয় গুরুত্ব আরোপ করব। বিনিয়োগের অন্তর্নিহিত নীতিমালাকে কোথাও বদলানো উচিত নয়, কিন্তু অর্থনৈতিক কৌশল ও পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে নীতিমালা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন জরুরী হয়ে পড়ে।

বর্তমান সংস্করণ লেখার সময় শেষ বক্তব্যকে পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছিল। এই সংস্করণের প্রথম ড্রাফট ১৯৭১ সালের জানুয়ারীতে শেষ হয়েছিল। সেসময় ডিজেআইএ ১৯৭০ সালের ৬৩২ থেকে উত্তরণ করে ১৯৭১ সালে ৯৫১ তে উঠেছে। সংস্করণের শেষ ড্রাফট যখন শেষ হল ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে, মার্কেট তখন আবার পতনের মুখে, ৯৫১ তখন ৭৯৭ তে নেমে এর ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশংকা তৈরি করেছে। প্রকৃত বিনিয়োগ পলিসির উপর এই উত্থান-পতনের কোন প্রভাব আমরা পড়তে দিতে পারিনা, যেটা সেই ১৯৪৯ সালে এই বইয়ের প্রথম সংস্করণ থেকে অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।

১৯৬৭-৭০ সাল পর্যন্ত মার্কেটের যে বাড়তি সংকোচন, সেটার মূলে ছিল বিগত দুই শতকের বিভ্রান্তি। শীর্ষস্থানীয় কমন স্টককে যেকোন সময় ও যেকোন মূল্যে শুধুমাত্র লাভের নিশ্চয়তাসহ নয়, বরং এর যেকোন ক্ষতিকে পুষিয়ে দেয়ার গ্যারান্টিসহ কিনতে পারাই এই পরিস্থিতির একটা কারণ। বাস্তবতার ক্ষেত্রে এই সত্য বেশ কঠিন। যা-ই হোক, দীর্ঘদিন পর স্টক মার্কেট ‘স্বাভাবিকতায় ফিরল’ এই অর্থে যে ফটকাবাজ ও স্টকে বিনিয়োগকারীরা গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভবত: প্রতিহতের যোগ্য পতনের জন্য সমানভাবে প্রস্তুতি নিল।

অনেক সেকেন্ডারী ও থার্ড-লাইন কমন স্টকে মার্কেটের শেষ পতনটা মারাত্মক হয়ে দাঁড়াল। এটি মূলত: নতুন কিছু ছিল না, ১৯৫১-৫২ সালের মতই হয়েছিল, কিন্তু এখানে নতুন একটি বিষয় ছিল যে বিনিয়োগকৃত কিছু ফান্ডের শর্ত ছিল বেশ উচ্চমার্গীয় আর অতিমূল্যায়নের বিষয়টাও ছিল। কেবল নবাগতদের জন্যই এই সতর্কবাণী অপরিহার্য ছিল না, সকলের জন্য ছিল যে বিরাট অর্জনের পর উত্তেজিত হওয়া অন্যকোথাও খাটে, তবে ওয়াল স্ট্রীটে সেই খেপামি সর্বনাম ডেকে আনে।

আমাদের বড় প্রশ্নটি হবে ফাস্ট-কোয়ালিটি বন্ডে সুদের চড়া হারের বৃদ্ধি সংক্রান্ত। ১৯৬৭ সাল থেকে বিনিয়োগকারীরা কমন স্টকের লভ্যাংশ যতটুকু পায়, তার দ্বিগুণ পাচ্ছে এইসব বন্ড থেকে। ১৯৭২ সালের শুরুতে সর্বোচ্চ- গ্রেডের বন্ড থেকে শতকরা ৭.১৯ ভাগ পাওয়া যেত, যেখানে ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্টক থেকে মাত্র শতকরা ২.৭৬ ভাগ। (১৯৬৪ সালের শেষের দিকে এই পরিমাণ ছিল শতকরা ৪.৪০ ভাগ ও শতকরা ২.৯২ ভাগ।) বিষয়টি আন্দাজ করা কঠিন যে ১৯৪৯ সালে এই বইটি যখন প্রথম লেখা হচ্ছিল, সংখ্যাগুলো ছিল পুরোপুরি বিপরীত: বন্ড দিচ্ছিল শতকরা ২.৬৬ ভাগ আর স্টকে পাওয়া যেত শতকরা৬.৮২ ভাগ। বিগত সংস্করণগুলোতে আমরা লাগাতার আবেদন করছিলাম যে কমন স্টকে রক্ষণশীল বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওতে যেন কমপক্ষে শতকশা ২৫ ভাগ হিসাব করা হয় আর দুইটি সাধারণ মাধ্যমে ৫০-৫০ করে যেন বন্টন করা হয়। আমাদের এমন ভাবতে হচ্ছে যে আরো সংবেদনশীল সম্পর্কে তৈরি হওয়ার আগ পর্যন্ত স্টকের উপর বন্ডের সুবিধা কার্যকর, না সমস্ত বন্ডের উপর স্টকের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিকভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হলে ক্রমাগত উত্তরণের ব্যাপারে প্রশ্ন তোলা জরুরী।

একটি অধ্যায় এই আলোচনার জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। এই বইটি যাদের জন্য লেখা হয়েছিল, অতীতে আমরা তাদেরকে দুটো মৌলিক ভাগে বিভক্ত করেছিলাম- ‘প্রতিরক্ষামূলক’ ও ‘দুঃসাহসী’। প্রতিরক্ষামূলক বিনিয়োগকারী বড় ধরনের কোন ভুল বা ক্ষতি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে। তার দ্বিতীয় লক্ষ্য হবে চেষ্টা ও বিরক্তি থেকে মুক্তি এবং স্বত:স্ফূর্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার চাহিদা। দুঃসাহসী বিনিয়োগকারীর গভীর আগ্রহ থাকবে সময় ও যতœসহকারে এমন সিকিউরিটিস নির্বাচন করা সেগুলো গড়মানের চেয়ে অনেক বেশি পরিপূর্ণ ও আকর্ষণীয় হয়।

এই ধরনের দুঃসাহসী বিনিযোগকারীরা তাদের দক্ষতা ও মেধার কারণে গড়পরতার চেয়ে অনেক বেশি লভ্যাংশ প্রত্যাশা করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগকারীদেরকে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া যায় কি’না, আমরা সন্দিহান। কিন্তু আগামী বছর বা তারও পরে পরিস্থিতি হয়ত ভিন্ন হবে। আমরা এইসব উদ্যোগী বিনিয়োগকারীদের সম্ভাবনার প্রতি মনোযোগী হব, যেহেতু আগে তারা ছিল আর হয়ত ফিরে আসবে।

অনেক আগে থেকে এই মতবাদ প্রচলিত আছে যে সফল বিনিয়োগের কৌশল নিহিত থাকে প্রথমত: যেসব ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যত উজ্জ্বল, সেগুলো বেছে নেয়ার উপর এবং এরপর সেইসব ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নশীল কোম্পানীগুলো চিহ্নিত করার উপর। যেমন- স্মার্ট বিনিয়োগকারী বা তাদের স্মার্ট উপদেষ্টারা সর্বোপরি ও বিশেষত: ইন্টারন্যাশনাল বিজন্যাস মেশিনে কম্পিউটার ইন্ডাস্ট্রির বিশাল সম্ভাবনা অনেক আগেই বুঝতে পেরেছিল। একইভাবে অন্যান্য বর্ধনশীল ইন্ডাস্ট্রি ও কোম্পানীগুলোর ব্যাপারেও। তবে এটি সবসময় অতীতের পর্যবেক্ষণের মত সহজ হয় না। এই পয়েন্টকে পুরোপুরি বুঝার জন্য নীচে একটি প্যারাগ্রাফ দেয়া হল যেটি ১৯৪৯ সালের সংস্করণে প্রথম দেয়া হয়েছিল।

এ ধরনের একজন বিনিয়োগকারী এয়ার-ট্রান্সপোর্ট স্টকের ক্রেতাও হতে পারে, কারণ সে বিশ্বাস করে যে মার্কেটের প্রচলিত ধারার চেয়ে এই ব্যবসার ভবিষ্যত অনেক উজ্জ্বল। এ ধরনের বিনিয়োগকারীদের জন্য গোপনে ওঁৎ পেতে থাকা অনেক বিপদের ব্যাপারে এই বইয়ে সতর্কবাণী দেয়া আছে।

উল্লেখিত ইন্ডাষ্ট্রির জন্য এইসব গুপ্ত বিপদগুলো খুবই বিপজ্জনক। এয়ার ট্রাফিকের আকৃতি যে বাড়বে দিন দিন, সেই ভবিষ্যদ্বাণী করা খুব সহজ। কিন্তু রেভেনিউ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও যান্ত্রিক সমস্যা ও ধারণ ক্ষমতার অতুশয়োক্তির কারণে কম্পিউটার ইন্ডাষ্ট্রির চেয়েও অনেক বেশি উত্থান-পতন ও এমনকি লাভের অংকও বিপদের সম্মুখীন হয়। ১৯৭০ সালে ট্রাফিক ফিগারে নতুন উচ্চতা থাকাসত্ত্বেও এয়ারলাইনস তার শেয়ার হোল্ডারদের জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি স্বীকার করে। (১৯৪৫ ও ১৯৬১ সালেও তাদের প্রচুর ক্ষতি হয়) এইসব কোম্পানীর স্টকগুলো ১৯৬৯-৭০ সালেও সাধারণ মার্কেটের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি স্বীকার করে। রেকর্ডে দেখা যায় যে মিউচ্যুয়েল ফান্ডের উচ্চ বেতনধারী ফুলটাইম দক্ষ ব্যক্তিরাও বৃহৎ ও ব্যক্তিগত ইন্ডাষ্ট্রির ভবিষ্যত সম্পর্কে ভুল ধারণা করে।

পক্ষান্তরে আইবিএমে যখন স্থায়ী বিনিয়োগ ও স্থায়ী লাভের সুযোগ ছিল, এর প্রদর্শিত উচ্চ মূল্য ও বৃদ্ধির হার সম্পর্কে সম্ভাব্য ধারণা না থাকার কারণে ফান্ডের শতকরা ৩ ভাগ এর চেয়ে বেশি এরা নিতে পারেনি। এভাবে তাদের চমৎকার নির্বাচনের প্রভাব পুরোপুরি ফলাফলের উপর কোন অবস্থাতেই চূড়ান্ত আকার ধারণ করতে পারেনি। এছাড়াও কম্পিউটার ইন্ডাষ্ট্রিতে বিনিয়োগকারীরা আইবিএমের চেয়ে কম পরিমাণ লাভ ঘরে তুলতে পেরেছে। এই দুটি বৃহৎ উদাহরণ থেকে পাঠকদের জন্য দুটি নীতিকথা আমরা উল্লেখ করতে পারি।

১। ব্যবসার শারীরিক বৃদ্ধির স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিশ্চিত লাভে পরিণত হয় না।
২। চৌকস ইন্ডাস্ট্রির উজ্জ্বল কোম্পানীগুলোকে বেছে নেয়া ও মনোযোগ দেয়ার জন্য নির্ভরযোগ্য কোন মাধ্যম অভিজ্ঞ মানুষদেরও নেই।

লেখক ফান্ড ম্যানেজার হিসেবে এই নীতি অনুসরণ করেন নি এবং যারা এ পথে চেষ্টা করেছে, তাদেরকে সুনির্দিষ্ট কোন সুপারিশ বা তেমন উৎসাহও দেননি।
তাহলে এই বইয়ের মূল উদ্দেশ্য কি? আমরা পাঠকদেরকে সম্ভাব্য ভুলগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করব আর তাদের পলিসি উন্নয়নে সাহায্য করব। বিনিয়োগকারীর মনস্তত্ব নিয়েও আমরা সামান্য আলোচনা করব। যেমন বিনিয়োগকারীর প্রধান সমস্যা, এমনকি তার চরম শত্র“ হল সে নিজে। (প্রিয় বিনিয়োগকারী, আমাদের স্টার ও স্টকে কোন দোষ নেই, কিন্তু আমাদের মধ্যে...”) একথার সত্যতা সম্প্রতি অনেক বেশি প্রমাণিত আর রক্ষণশীল বিনিয়োগকারীদের জন্য আরো বেশি অপরিহার্য যারা সাধারণ স্টক অর্জন করে এবং এভাবেই স্টক মার্কেটের উত্তেজনা ও লোভের প্রতি নিজেকে সমর্পিত করে। বিতর্ক, উদাহরণ ও উৎসাহদানের মাধ্যমে আমরা বিনিযোগকারীদের যথার্থ মানসিকতাও আবেগপ্রবণতা তৈরি করে দেব যাতে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেক ‘সাধারণ মানুষ’কে আমরা প্রচুর অর্থ তৈরি করতে দেখেছি, অন্তত: তাদের চেয়ে বেশি, যাদের অর্থনীতি, অ্যাকাউন্টিং ও স্টক মার্কেট সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান যা সত্ত্বেও কেবল এই গুণটার অভাব ছিল।

পাঠকদের মধ্যে পরিমাপ করার একটি প্রবণতা আমরা তৈরি করে দিতে চাই। ১০০ এর মধ্যে ৯৯টি বিষয়ে আমরা বলতে চাই যে কিছু মূল্যে সেগুলো এত অর্থহীন যে কেনার মত নয়, আবার কোন কোন মূল্যে সেগুলো এত প্রিয় যে বিক্রিযোগ্য নয়। কোন বস্তু কি ধরনের মূল্য দিয়ে কেনা উচিত, সেটি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরী অনেক বছর আগে একটি মহিলাদের ম্যাগাজিনে এক আর্টিক্যালে আমরা পরামর্শ দিয়েছিলাম যে পাঠকের উচিত পণ্যসামগ্রীর মত স্টক কেনা, পারফিউম কেনার মত নয়। সেইসব সাধারণ- স্টকে বিগত কয়েক বছরের অপূরণীয় ক্ষতির কারণে ক্রেতা প্রশ্ন করতেই ভুলে গেছে, “দাম কত?”

১৯৭০ সালের জুন মাসে এই ‘দাম কত’ প্রশ্নের জবাবে বলা যেত শতকরা ৯.৪০ ভাগ। সেটি এখন শতকরা ৭.৩ ভাগ তে নেমে এসেছে, তবু এই অর্থ আমাদেরকে প্রশ্ন করতে লালায়িত করে, “অন্য জবাব কেন দেব?” কিন্তু এখানে অন্তর জবাবের সম্ভাবনা রয়েছে আর এগুলোকে সতর্কতার সাথে যাচাই করতে হল। এছাড়াও আমাদের পাঠকদেরকে আগেভাগে সম্ভাব্য ভিন্ন পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে, অনেকটা ১৯৭৩-১৯৭৭ সালের মত। আমরা সাধারণ স্টক বিনিয়োগের ইতিবাচক কর্মসূচী সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানাব, যার কিছু অংশ দুই ধরনের বিনিয়োগকারীর আওতাবীন আর সামান্য অংশ দুঃসাহসী ব্যবসায়ীদের জন্য। বিস্ময়ের ব্যাপার হল আমাদের অন্যতম প্রধান পরামর্শ হল পাঠকেরা যেন সম্পদ বিক্রির পর্যায় থেকে দূরে থাকে। কারণ এই পুরণো পরামর্শটি বাস্তবসম্মত ও মনস্তাত্ত্বিক। অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে যে যখন অনেক বড় কোম্পানীগুলো সম্পদ তৈরি করে, এ ধরনের শেয়ারের ক্রেতারা শেয়ার মার্কেটের অস্থিরতা ও উত্থান-পতনের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। শেয়ারের বিনিয়োগকারীরা প্রকৃত ও বর্ধিত ব্যবসার লভ্যাংশের দাবীদার মনে করে নিজেদের, শেয়ার মার্কেট তাদের যা-ই বলুক না কেন। এ ধরনের রক্ষণশীল পলিসির ফলাফল সবসময়ই চাকচিক্যময় ও বিপজ্জনক ক্ষেত্রে রোমাঞ্চকর অভিযানের মতই মনে হয়।

বিনিয়োগের কৌশলের একটি বৈশিষ্ট্য হল যে এটিকে সবাই সমর্থন করে না। অত্যন্ত কম প্রচেষ্টা ও দক্ষতায় একজন বিনিয়োগকারী বিশ্বাসযোগ্য ফলাফল অর্জন করতে পারে, কিন্তু এই সহজ অর্জনকে উন্নত করতে হলে প্রচুর মনোযোগ ও বুদ্ধিমত্তা প্রয়োজন। যদি মনে করেন যে সামান্য বাড়তি জ্ঞান ও চালাকি প্রয়োগ করলেই হবে, তবে আপনার ফল খারাপ হবে।
কেবল ক্রয় করে ও প্রতিনিধির তালিকায় উঠে মার্কেটের গড় পরিমাণের সমান হওয়া যায়, মনে হয় গড় হিসাবকে হারিয়ে দেয়া সামান্য ব্যাপার, কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে অনেক স্মার্ট মানুষ কাজটি করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি বিনিয়োগ ফান্ডের বেশিরভাগই তাদের সুদক্ষ ব্যক্তিবর্গ নিয়ে ততটা ভালো করতে পারেনি, যতটা জেনারেল ফান্ড করেছে। স্টক মার্কেট সংক্রান্ত ব্রোকারিজ হাউজের রেকর্ড ঘেঁটে অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে যে তাদের ভবিষ্যদ্বাণী সাধারণ কয়েন টসিংয়ের চেয়েও কম বিশ্বাসযোগ্য।

এই বইটি লেখার সময় বিনিয়োগের এইসব গুপ্তবিপদকে মনে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। একটি সরল পোর্টফোলিও পলিসির গুণের উপর জোর দেয়া হয়েছে- উচ্চ গ্রেডের বন্ডের সাথে শীর্ষস্থানীয় সাধারণ স্টকের একটি বৈচিত্র্যময় তালিকা কিনলে যেকোন বিনিয়োগকারী একজন দক্ষ সহকারীর সাহায্যে ব্যবসা চালিয়ে নিতে পারে। এই নিরাপদ ও গভীর অঞ্চলের পিছনে যে রোমাঞ্চ নিহিত, তাকে সমস্যার সাথে উপস্থাপন করা হয়, বিশেষত: অস্থিতিশীল এলাকায়। এ ধরনের সাহস প্রদর্শনের আগে বিনিয়োগকারী ও তার উপদেষ্টাকে নিশ্চিত হতে হয় যে বিনিয়োগ ও ধারণা এবং মার্কেটের মূল্য ও অন্তর্নিহিত গুণের মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কে তারা সঠিক জানে কিনা।
নিরাপদ সীমার মূলধনের উপর ভিত্তি করে শক্তিশালী মানসিকতা নিয়ে বিনিয়োগ করলে ভালো লাভ হতে পারে। কিন্তু নিশ্চিত ফলের জন্য প্রতিরক্ষামূলক বিনিয়োগের চেয়ে এরকম অর্থ প্রদানের সিদ্ধান্ত আত্ম-পরীক্ষার আগে নেয়া উচিত নয়।

একটি চূড়ান্ত অতীত সম্পর্কিত ভাবনা। ১৯১৪ সালের জুন মাসে তরুণ লেখক যখন ওয়াল স্ট্রীটে প্রবেশ করেছিলেন, তখন পরবর্তী অর্ধ-শতকে কি ঘটবে, সে বিষয়ে কারো বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। (স্টক মার্কেট এমনকি সন্দেহ পর্যন্ত করেনি যে পরবর্তী দুই মাসে বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে আর নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ বন্ধ হয়ে যাবে।) এখন ১৯৭২ সালে আমরা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছি, কিন্তু ব্যাপক সমস্যার সাথে লড়াই করে এবং ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশাবাদী হওয়ার চেয়ে অনেক বেশি শংকিত হয়ে। তবু আমেরিকার বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতি আমরা যদি মনোযোগ দেই, বিগত ৫৭ বছরের ইতিহাসে কিছু স্বস্থির আভাষ পাওয়া যায়। সকল উত্থান-পতন ও বিপদ সত্ত্বেও একথা সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত যে বিনিয়োগের গভীর নীতিমালা সাধারণত: ভালো ফল দেয়। আমরা এই ধারণা মেনে নেব যে ফলাফল এমনই থাকবে।

পাঠকের জন্য টীকা: এই বইটি জমাকারী ও বিনিয়োগকারীর সার্বজনীন অর্থনৈতিক পলিসি নয়; কেবল যে পরিমাণ অর্থ তারা বন্ড ও স্টকে রাখতে আগ্রহী, সেই পরিমাণ অর্থের ব্যাপারে এখানে কিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জমা ও সময় সঞ্চয়, জমা ও লোন সংক্রান্ত অ্যাকাউন্ট, লাইফ ইন্সুরেন্স, অ্যালুইটিং রিয়েল এষ্টেট মর্টগেজ ও ইক্যুইটির মালিকানা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে এখানে কোন আলোচনা নেই। পাঠক যখন ‘এখন’ শব্দটি পড়বে, তাদের মনে রাখতে হবে যে ১৯৭১ বা ১৯৭২ সালের কথা বলা হচ্ছে।

Title দ্য ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টর
Author
Translator
Publisher
ISBN 9789849268260
Edition 1st Published, 2019
Number of Pages 650
Country বাংলাদেশ
Language বাংলা

Customers who bought this product also bought

Reviews and Ratings

Submit Review-Rating and Earn 30 points (minimum 40 words)

4.4

5 Ratings and 3 Reviews

Recently Sold Products

call center

Help: 16297 24 Hours a Day, 7 Days a Week

Pay cash on delivery

Pay cash on delivery Pay cash at your doorstep

All over Bangladesh

Service All over Bangladesh

Happy Return

Happy Return All over Bangladesh