আমার অবিশ্বাস - হুমায়ুন আজাদ | Buy Amar Obisshas - Humayun Azad online | Rokomari.com, Popular Online Bookstore in Bangladesh

Product Specification

Title আমার অবিশ্বাস
Author হুমায়ুন আজাদ
Publisher আগামী প্রকাশনী
Quality হার্ডকভার
ISBN 9789840416790
Edition 2nd Print, 2012
Number of Pages 152
Country বাংলাদেশ
Language বাংলা

Product Summary

“আমার অবিশ্বাস” বইটির ফ্ল্যাপের কথাঃ
এক বড়াে অশুভ সময় এসেছে পৃথিবীতে, যারা অন্ধ তারা চোখে সবচেয়ে বেশি দেখতে তাে পাচেচ্ছই, তারা অত্যন্ত বেশি বিশ্বাস করছে, এবং পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে বিশ্বাসের বিকট মহামারী। এখন সবাই বিশ্বাস করছে, সবাই বিশ্বাসী; কারাে পক্ষে এখন বলা সম্ভব হচ্ছে না। আমি বিশ্বাস করি না, আমি অবিশ্বাস করি। বিজ্ঞানের এই অসাধারণ যুগে যখন কিছু। অবিশ্বাসী সৌরলােক পেরিয়ে ঢুকতে চাচ্ছে মহাবিশ্বে, তখন পৃথিবী মেতে উঠেছে মধ্যযুগীয় বিশ্বাসে; শক্তিলােভী ভ্রষ্ট রাজরীতিকেরা মানুষকে আক্রান্ত করে তুলছে বিশ্বাসের রােগে।
এখন পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন । বিধাতা পালন করছে অত্যন্ত সক্রিয় রাজনীতিক ভূমিকা, আর গণতন্ত্রমত্ত শক্তির উৎসরা নির্বাচিত করে। চলছে বিভিন্ন বিধাতাকে। তবে বিশ্বাস শুধু অতিমানবিক সত্তায়ই সীমাবদ্ধ নয়; হাজার হাজার শূন্য, প্রথা বিশ্বাস করে চলছে তারা, যা খুবই ক্ষতিকর। বাংলাদেশে আজ সবাই বিশ্বাসী; শক্তিমানতম থেকে দুর্বলতম বাঙালিটি প্রচণ্ডভাবে পালন করে চলছে। বিশ্বাস। এখানে একমাত্র হুমায়ুন আজাদই বলতে পারেন- আমি অবিশ্বাস করি। তাঁর অবিশ্বাস শুধু অতিমানবিক সত্তায় অবিশ্বাস নয়, তাঁর অবিশ্বাস এর । থেকে অনেক গভীর; তিনি অবিশ্বাস করেন এ-সভ্যতার প্রায় সমস্ত প্রচারে। সব কিছুই তিনি বিচার করে দেখতে চান; এবং এর ফলেই জন্মেছে এই অসামান্য দার্শনিক গ্রন্থটি। এ-বইয়ের পরিচেচ্ছদপরম্পরায় তিনি খুলে খুলে দেখিয়েছেন বিশ্বাসের অন্তঃসারশূন্যতা। প্রথম প্রকাশের পর থেকে আমার অবিশ্বাস নন্দিত হয়ে এসেছে বাঙলা ভাষায় লেখা অনন্য বই হিশেবে। এবার প্রকাশিত হলাে বইটির পরিশুদ্ধ সংস্করণ।
বইটির ভূমিকাঃ
বিশ্বজগত এখনাে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বাসের ভিত্তির ওপর। গত তিন শতকে বিজ্ঞান বেশ এগিয়েছে, পৃথিবীকে মহাজগতের কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দিয়েছে এক গৌণ। এলাকায়, মহাজগতকে এক বদ্ধ এলাকার বদলে করে তুলেছে অনন্ত; এবং মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, অমৃতের পুত্র প্রভৃতি আত্মগর্বিত সুভাষণ থেকে বিচ্যুত করে পরিণত করেছে নগ্ন বানরে; কিন্তু মানুষের চেতনার বিশেষ বদল ঘটে নি। মানুষ আজো আদিম। মানুষের চোখে আজো সব কিছুই অলৌকিক রহস্যে পরিপূর্ণ; আকাশে আজো তারা অনন্ত নক্ষত্রপুঞ্জ বা নিরন্তর বিস্ফোরিত গ্যাসকুণ্ডের বদলে দেখতে পায় বিভিন্ন বিধাতা; দেখতে পায় মনােরম স্বর্গ আর ভীতিকর নরক। সভ্যতার কয়েক হাজার বছরে মানুষ মহাজগতকে উঘাটিত করার বদলে তাকে পরিপূর্ণ করেছে অজস্র রহস্যে, ধারাবাহিকভাবে করে চলছে বিশ্বের রহস্যীকরণ; বা সত্যের অসত্যীকরণ।
মহাজগতের রহস্যীকরণে অংশ নিয়েছে মানুষের প্রতিভার সব কিছু: পুরাণ, ধর্ম, দর্শন, সাহিত্য, শিল্পকলা, এবং আর যা কিছু আছে। তার শক্তির সব কিছুই মানুষ ব্যবহার করেছে মহাজগতকে রহস্যে ভ'রে তুলতে; তাকে পরিচিত করার বদলে করেছে অপরিচিত, আলােকিত করার বদলে করেছে তমসাচ্ছন্ন। আদিম মানুষ যখন রহস্যীকরণ শুরু করেছিলাে, তার কোনাে দুরভিসন্ধি ছিলাে না, সে শুধু গিয়েছিলাে ভুল পথে; কিন্তু পরে সমাজপ্রভুরা দেখতে পায় বিশ্বের সত্য বের করার বদলে তাকে রহস্যে বােঝাই করে তুললেই সুবিধা হয় তাদের। মহাজগতের রহস্যীকরণে ধর্ম নেয় প্রধান ভূমিকা; তার কাজ হয়ে ওঠে রহস্যবিধিবদ্ধকরণ, আলাে সরিয়ে অন্ধকার ছড়ানাে, মানুষের মনে বিশ্বাস সৃষ্টি করা সে-সব সম্বন্ধে যা সম্পূর্ণরূপে অস্তিত্বহীন। ওই রহস্যের পায়ের নিচে নানা তাত্ত্বিক কাঠামাে স্থাপন করে দর্শন, জন্ম দেয় বহু বিখ্যাত ধাঁধা, করে রহস্যের দর্শনীকরণ। দর্শনের লক্ষ্য ছিলাে সত্য আবিষ্কার, কিন্তু দর্শন আসলে । বেশি সত্য বের করতে পারে নি; কিন্তু মিথ্যে প্রতিষ্ঠায় তার কাজ অতুলনীয়। প্লাতাে-আরিস্ততল সত্য বের করেছেন খুবই কম, তবে মিথ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিপুল। সাহিত্য ও শিল্পকলা রহস্যকে রূপময় করে তীব্র আবেগের সাথে সঞ্চার
করেছে মানুষের মনে। বিশ্বসাহিত্যের বড়াে অংশই দাঁড়িয়ে আছে ভুল ভিত্তির। ওপর। তাই মহাজগত এখনাে রহস্যময়; মহাজগতকে এখনাে বােঝার উপায় হচ্ছে বিশ্বাস। এই রহস্যময়তা ও বিশ্বাস ক্ষতিকর মানুষের জন্যে; এখন দরকার মহাজগত ও মানুষের মনকে অলৌকিক রহস্য থেকে উদ্ধার করা, অর্থাৎ দরকার। মহাজগতের বিরহস্যীকরণ। মানুষের জন্যে যা কিছু ক্ষতিকর, সেগুলাের শুরুতেই রয়েছে বিশ্বাস; বিশ্বাস সত্যের বিরােধী, বিশ্বাসের কাজ অসত্যকে অস্তিত্বশীল করা। বিশ্বাস থেকে কখনাে জ্ঞানের বিকাশ ঘটে না; জ্ঞানের বিকাশ ঘটে। অবিশ্বাস থেকে, প্রথাগত সিদ্ধান্ত দ্বিধাহীনভাবে না মেনে তা পরীক্ষা করার উৎসাহ থেকে।
বাঙলার মহাপুরুষগণ, বিদ্যাসাগর ও আরাে দু-একজন বাদে, সবাই বিশ্বাসী; তাঁরা আমাদের জন্যে সৃষ্টি করে গেছেন ভুল কল্পজগত। রাজনীতিবিদেরা আজ মেতে উঠেছে বিশ্বাস ও মিথ্যের প্রতিযােগিতায়; তারা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিকর মানবগােত্র। আমার অবিশ্বাস্এ সাতটি প্রবন্ধ রয়েছে, তবে বইটি প্রবন্ধের বই নয়; আমি ধারাবাহিকভাবে একটি বই-ই লিখতে চেয়েছিলাম, তবে পাঠকদের কথা ভেবে বইটিকে সাত শিরােনামে ভাগ করে দিলাম। আমি আনন্দিত যে বইটি বিপুল সাড়া জাগিয়েছে, বাঙালির বিশ্বাসের মেরুদণ্ডে কিছুটা ফাটল ধরাতে পেরেছে। সংশােধিত এ-সংস্করণে শুদ্ধ করে দেয়া হলাে কয়েকটি মুদ্রণ ত্রুটি, বদল করা হলাে একটি বাক্য, কবিতার অনুবাদেও বদল করা হলাে কয়েকটি শব্দ। নতুন অক্ষরে বইটি এবার বিন্যস্ত হলাে বলে কয়েকটি পাতা। কমলাে, কিন্তু আর কিছু কমে নি, বরং কিছুটা বেড়েছে।
সূচিপত্রঃ
* আমার ইন্দ্রিয়গুলাে-১৩
* বিশ্বাসের জগত-২২
* মহাসমুদ্রে ছােট্ট চর: আমাদের গ্রাম -৬২
* ধর্ম -৭৭
* আরণ্যিক নির্বোধের ভ্রান্ত দুঃস্বপন- ১০৩
* আমার অবিশ্বাস- ১২৩

Author Information

Humayun Azad
জন্ম -এপ্রিল ২৮, ১৯৪৭, মৃত্যু -আগস্ট ১১, ২০০৪) (বৈশাখ ১৪, ১৩৫৪–শ্রাবণ ২২, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ছিলেন বাংলাদেশি কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সমালোচক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী, কিশোর সাহিত্যিক এবং রাজনীতিক ভাষ্যকার।
তাঁর জন্ম নাম ছিলো হুমায়ুন কবীর। ১৯৮৮ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর নাম পরিবর্তনের মাধ্যম তিনি বর্তমান নাম ধারণ করেন। বাবা আবদুর রাশেদ প্রথম জীবনে বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও পোস্টমাস্টারির চাকুরি করতেন পরে ব্যবসায়ী হন। মা জোবেদা খাতুন একজন গৃহিণী ছিলেন। তিন ভাই এবং দুই বোনের মধ্যে আজাদ ছিলেন পিতামাতার প্রথম পুত্রসন্তান। ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর পিতৃবিয়োগ ঘটে। তিনি ছেলেবেলায় প্রায় ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত রাড়িখালের প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে বেড়ে ওঠেন।
১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্য স্নাতক ডিগ্রি এবং ১৯৬৮ সালে একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। উভয় পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন। ১৯৭৬ সালে তিনি এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় চট্টগ্রাম কলেজে প্রভাষক হিশেবে। এখানে কিছুকাল কর্মরত থাকার পর ১৯৭০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। একই বছর ১৯৭২ সালের শেষ দিকে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসাবে যোগ দেন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের ১ নভেম্বর আজাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন এবং পরবর্তী কালে কয়েক বছর বাংলা বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি বাংলা বিভাগে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
হুমায়ুন আজাদ ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে লতিফা কোহিনুরকে বিয়ে করেন। তাঁর দুই কন্যা মৌলি আজাদ, স্মিতা আজাদ এবং এক পুত্র অনন্য আজাদ। বাংলাদেশে যখন মৌলবাদ বিস্তার লাভ করতে থাকে, বিশেষ করে ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত, তখন ২০০৪ এ প্রকাশিত হয় হুমায়ুন আজাদের পাক সার জমিন সাদ বাদ গ্রন্থ। এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হলে দেশের মৌলবাদী গোষ্ঠি তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়, এবং বিভিন্ন স্থানে হুমায়ুন আজাদের বিরুদ্ধে প্রচারনা চালায়। তিনি এই বইটিতে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতাকারী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীকে ফ্যাসিবাদী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এর কঠোর সমালোচনা করেন । আর তারই জের ধরে ২০০৪ সালে হুমায়ুন আজাদের উপর সন্ত্রাসী হামলা হয়, যার দায়িত্ব পরবর্তীতে জমিয়াতুল মুজাহেদীনের সন্ত্রাসবাদীরা স্বীকার করে। হুমায়ুন আজাদ ১১ আগস্ট ২০০৪ সালে জার্মানির মিউনিখ শহরে মৃত্যুবরণ করেন।

আমার অবিশ্বাস

আমার অবিশ্বাস

by হুমায়ুন আজাদ

(44)

TK. 255 TK. 300 (You are Saving 15%)


tag_icon

পয়েন্ট জমান, ক্যাশ করুন, পছন্দের পণ্য কিনুন। বিস্তারিত

tag_icon

হুমায়ূন আহমেদের সকল বইয়ে নিশ্চিত ২৫% ছাড়!

tag_icon

১০০০+৳ হুমায়ূন আহমেদের বই অর্ডার করলেই স্পেশাল নোটবুক ফ্রি।



icon

Order Delivery Tk. 40

icon

Purchase & Earn

Readers also bought

Details

Reviews and Ratings

Submit Review-Rating and Earn 30 points (minimum 40 words)

3.27

44 Ratings and 20 Reviews

Recently Sold Products

Recently Viewed