আমার অবিশ্বাস

আমার অবিশ্বাস (হার্ডকভার)

TK. 255 TK. 300 15% Off

30 Ratings / 16 Reviews

Product Specification & Summary

“আমার অবিশ্বাস” বইটির ফ্ল্যাপের কথাঃ
এক বড়াে অশুভ সময় এসেছে পৃথিবীতে, যারা অন্ধ তারা চোখে সবচেয়ে বেশি দেখতে তাে পাচেচ্ছই, তারা অত্যন্ত বেশি বিশ্বাস করছে, এবং পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে বিশ্বাসের বিকট মহামারী। এখন সবাই বিশ্বাস করছে, সবাই বিশ্বাসী; কারাে পক্ষে এখন বলা সম্ভব হচ্ছে না। আমি বিশ্বাস করি না, আমি অবিশ্বাস করি। বিজ্ঞানের এই অসাধারণ যুগে যখন কিছু। অবিশ্বাসী সৌরলােক পেরিয়ে ঢুকতে চাচ্ছে মহাবিশ্বে, তখন পৃথিবী মেতে উঠেছে মধ্যযুগীয় বিশ্বাসে; শক্তিলােভী ভ্রষ্ট রাজরীতিকেরা মানুষকে আক্রান্ত করে তুলছে বিশ্বাসের রােগে।
এখন পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন । বিধাতা পালন করছে অত্যন্ত সক্রিয় রাজনীতিক ভূমিকা, আর গণতন্ত্রমত্ত শক্তির উৎসরা নির্বাচিত করে। চলছে বিভিন্ন বিধাতাকে। তবে বিশ্বাস শুধু অতিমানবিক সত্তায়ই সীমাবদ্ধ নয়; হাজার হাজার শূন্য, প্রথা বিশ্বাস করে চলছে তারা, যা খুবই ক্ষতিকর। বাংলাদেশে আজ সবাই বিশ্বাসী; শক্তিমানতম থেকে দুর্বলতম বাঙালিটি প্রচণ্ডভাবে পালন করে চলছে। বিশ্বাস। এখানে একমাত্র হুমায়ুন আজাদই বলতে পারেন- আমি অবিশ্বাস করি। তাঁর অবিশ্বাস শুধু অতিমানবিক সত্তায় অবিশ্বাস নয়, তাঁর অবিশ্বাস এর । থেকে অনেক গভীর; তিনি অবিশ্বাস করেন এ-সভ্যতার প্রায় সমস্ত প্রচারে। সব কিছুই তিনি বিচার করে দেখতে চান; এবং এর ফলেই জন্মেছে এই অসামান্য দার্শনিক গ্রন্থটি। এ-বইয়ের পরিচেচ্ছদপরম্পরায় তিনি খুলে খুলে দেখিয়েছেন বিশ্বাসের অন্তঃসারশূন্যতা। প্রথম প্রকাশের পর থেকে আমার অবিশ্বাস নন্দিত হয়ে এসেছে বাঙলা ভাষায় লেখা অনন্য বই হিশেবে। এবার প্রকাশিত হলাে বইটির পরিশুদ্ধ সংস্করণ।
বইটির ভূমিকাঃ
বিশ্বজগত এখনাে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বাসের ভিত্তির ওপর। গত তিন শতকে বিজ্ঞান বেশ এগিয়েছে, পৃথিবীকে মহাজগতের কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দিয়েছে এক গৌণ। এলাকায়, মহাজগতকে এক বদ্ধ এলাকার বদলে করে তুলেছে অনন্ত; এবং মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, অমৃতের পুত্র প্রভৃতি আত্মগর্বিত সুভাষণ থেকে বিচ্যুত করে পরিণত করেছে নগ্ন বানরে; কিন্তু মানুষের চেতনার বিশেষ বদল ঘটে নি। মানুষ আজো আদিম। মানুষের চোখে আজো সব কিছুই অলৌকিক রহস্যে পরিপূর্ণ; আকাশে আজো তারা অনন্ত নক্ষত্রপুঞ্জ বা নিরন্তর বিস্ফোরিত গ্যাসকুণ্ডের বদলে দেখতে পায় বিভিন্ন বিধাতা; দেখতে পায় মনােরম স্বর্গ আর ভীতিকর নরক। সভ্যতার কয়েক হাজার বছরে মানুষ মহাজগতকে উঘাটিত করার বদলে তাকে পরিপূর্ণ করেছে অজস্র রহস্যে, ধারাবাহিকভাবে করে চলছে বিশ্বের রহস্যীকরণ; বা সত্যের অসত্যীকরণ।
মহাজগতের রহস্যীকরণে অংশ নিয়েছে মানুষের প্রতিভার সব কিছু: পুরাণ, ধর্ম, দর্শন, সাহিত্য, শিল্পকলা, এবং আর যা কিছু আছে। তার শক্তির সব কিছুই মানুষ ব্যবহার করেছে মহাজগতকে রহস্যে ভ'রে তুলতে; তাকে পরিচিত করার বদলে করেছে অপরিচিত, আলােকিত করার বদলে করেছে তমসাচ্ছন্ন। আদিম মানুষ যখন রহস্যীকরণ শুরু করেছিলাে, তার কোনাে দুরভিসন্ধি ছিলাে না, সে শুধু গিয়েছিলাে ভুল পথে; কিন্তু পরে সমাজপ্রভুরা দেখতে পায় বিশ্বের সত্য বের করার বদলে তাকে রহস্যে বােঝাই করে তুললেই সুবিধা হয় তাদের। মহাজগতের রহস্যীকরণে ধর্ম নেয় প্রধান ভূমিকা; তার কাজ হয়ে ওঠে রহস্যবিধিবদ্ধকরণ, আলাে সরিয়ে অন্ধকার ছড়ানাে, মানুষের মনে বিশ্বাস সৃষ্টি করা সে-সব সম্বন্ধে যা সম্পূর্ণরূপে অস্তিত্বহীন। ওই রহস্যের পায়ের নিচে নানা তাত্ত্বিক কাঠামাে স্থাপন করে দর্শন, জন্ম দেয় বহু বিখ্যাত ধাঁধা, করে রহস্যের দর্শনীকরণ। দর্শনের লক্ষ্য ছিলাে সত্য আবিষ্কার, কিন্তু দর্শন আসলে । বেশি সত্য বের করতে পারে নি; কিন্তু মিথ্যে প্রতিষ্ঠায় তার কাজ অতুলনীয়। প্লাতাে-আরিস্ততল সত্য বের করেছেন খুবই কম, তবে মিথ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিপুল। সাহিত্য ও শিল্পকলা রহস্যকে রূপময় করে তীব্র আবেগের সাথে সঞ্চার
করেছে মানুষের মনে। বিশ্বসাহিত্যের বড়াে অংশই দাঁড়িয়ে আছে ভুল ভিত্তির। ওপর। তাই মহাজগত এখনাে রহস্যময়; মহাজগতকে এখনাে বােঝার উপায় হচ্ছে বিশ্বাস। এই রহস্যময়তা ও বিশ্বাস ক্ষতিকর মানুষের জন্যে; এখন দরকার মহাজগত ও মানুষের মনকে অলৌকিক রহস্য থেকে উদ্ধার করা, অর্থাৎ দরকার। মহাজগতের বিরহস্যীকরণ। মানুষের জন্যে যা কিছু ক্ষতিকর, সেগুলাের শুরুতেই রয়েছে বিশ্বাস; বিশ্বাস সত্যের বিরােধী, বিশ্বাসের কাজ অসত্যকে অস্তিত্বশীল করা। বিশ্বাস থেকে কখনাে জ্ঞানের বিকাশ ঘটে না; জ্ঞানের বিকাশ ঘটে। অবিশ্বাস থেকে, প্রথাগত সিদ্ধান্ত দ্বিধাহীনভাবে না মেনে তা পরীক্ষা করার উৎসাহ থেকে।
বাঙলার মহাপুরুষগণ, বিদ্যাসাগর ও আরাে দু-একজন বাদে, সবাই বিশ্বাসী; তাঁরা আমাদের জন্যে সৃষ্টি করে গেছেন ভুল কল্পজগত। রাজনীতিবিদেরা আজ মেতে উঠেছে বিশ্বাস ও মিথ্যের প্রতিযােগিতায়; তারা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিকর মানবগােত্র। আমার অবিশ্বাস্এ সাতটি প্রবন্ধ রয়েছে, তবে বইটি প্রবন্ধের বই নয়; আমি ধারাবাহিকভাবে একটি বই-ই লিখতে চেয়েছিলাম, তবে পাঠকদের কথা ভেবে বইটিকে সাত শিরােনামে ভাগ করে দিলাম। আমি আনন্দিত যে বইটি বিপুল সাড়া জাগিয়েছে, বাঙালির বিশ্বাসের মেরুদণ্ডে কিছুটা ফাটল ধরাতে পেরেছে। সংশােধিত এ-সংস্করণে শুদ্ধ করে দেয়া হলাে কয়েকটি মুদ্রণ ত্রুটি, বদল করা হলাে একটি বাক্য, কবিতার অনুবাদেও বদল করা হলাে কয়েকটি শব্দ। নতুন অক্ষরে বইটি এবার বিন্যস্ত হলাে বলে কয়েকটি পাতা। কমলাে, কিন্তু আর কিছু কমে নি, বরং কিছুটা বেড়েছে।
সূচিপত্রঃ
* আমার ইন্দ্রিয়গুলাে-১৩
* বিশ্বাসের জগত-২২
* মহাসমুদ্রে ছােট্ট চর: আমাদের গ্রাম -৬২
* ধর্ম -৭৭
* আরণ্যিক নির্বোধের ভ্রান্ত দুঃস্বপন- ১০৩
* আমার অবিশ্বাস- ১২৩

Title আমার অবিশ্বাস
Author
Publisher
ISBN 9789840416790
Edition 2nd Print, 2012
Number of Pages 152
Country বাংলাদেশ
Language বাংলা

Customers who bought this product also bought

Reviews and Ratings

3.24

30 Ratings and 16 Reviews

Show more Review(s)
call center

Help: 16297 / 01519521971 24 Hours a Day, 7 Days a Week

Pay cash on delivery

Pay cash on delivery Pay cash at your doorstep

All over Bangladesh

Service All over Bangladesh

Happy Return

Happy Return All over Bangladesh