১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ জিয়াউর রহমানের বজ্রকণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুধু কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রই নয়- জিয়াউর রহমানও ইতিহাসে স্থায়ীভাবে স্থান করে নেন।
এর আগে ২৫ মার্চের ভয়াল রাতে নির্দেশনা অনুযায়ী মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম বন্দরে 'সোয়াত' জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করতে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ঢাকায় পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে শুরু করে নৃশংস গণহত্যা। এ সংবাদ পাওয়া মাত্রই জিয়াউর রহমান আর স্থির থাকতে পারেননি। তখন তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের ঘোলশহর এলাকায়।
সেখানেই তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন- "This is a revolt" (আমরা বিদ্রোহ করলাম)।
পরিস্থিতির উত্তেজনা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দ্বিধা-দ্বন্দ্বপূর্ণ অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাঙালি সৈন্যদের নিয়ে তিনি সরে যান নিরাপদ আশ্রয়ে। যদিও পুরো জাতি তখন রাজপথে 'বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর' স্লোগানে মুখর, তবুও নেতৃত্বের অনিশ্চয়তার সে মুহূর্তে একজন সেনা কর্মকর্তা হয়েও জিয়াউর রহমানের প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক।
২৫ মার্চের গণহত্যায় যখন ঢাকা বিপর্যস্ত ও বিভ্রান্ত, তখন চট্টগ্রাম ধীরে ধীরে প্রস্তুত হচ্ছিল প্রতিরোধের জন্য- আর এই প্রস্তুতির সামনের সারিতে ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। অত্যাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। তাঁর নেতৃত্বেই গড়ে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সংগঠিত ব্রিগেড- 'জেড ফোর্স', যাঁর নামের আদ্যাক্ষরে স্থান পায় এই বীর সেনানায়ক।
অনামিকা হক লিলি (বেগম গুল বাহার) জন্ম- ১৯৪৮ পাবনা সিরাজগঞ্জের সাজাদপুরে। পিতা এ, এম, আনসার আলী, মাতা রাবেয়া খাতুন। শিক্ষা : এম, এ, (বাংলা) পেশা অধ্যাপনা, বর্তমানে সরকারী বিজ্ঞান কলেজের প্রিন্সিপাল। তিনি এদেশের এক প্রতিভা চিহ্নিত ও প্রাতিস্বিক স্বাতন্ত্র উজ্জ্বলন্ত কথাকোবিদ। তিনি ছােট গল্প, উপন্যাস, শিশুতােষ, ভ্রমণ কাহিনীতে সিদ্ধহস্ত। তার কিছু কবিতা ইংরেজীতে অনূদিত হয়ে Unchained Verse সংকলন এবং জমণ কাহিনী Land. of The Dawn প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত বই এর সংখ্যা ২৮টি। তিনি নিয়মিতভাবে পত্র-পত্রিকায় লিখে থাকেন। অনামিকা হক লিলির লেখনী, সমকালীন রাষ্ট্র ও সমাজ মানুষের পিঙ্গল আবর্তে ও কূটবুদ্ধি পেশাজীবীদের অন্তঃসারশূন্য চারিত্রে বিক্ষত ও বেদনাময় ব্যক্তিক সম্পর্কের বিবিধ টানাপােড়েনের বিচিত্র রূপাঙ্কণ এবং অসমভাবে বিকশিত সমাজে মানুষের অস্তিত্ব অভীপ্সার স্বরূপ নির্মাণেই। তিনি মুখ্যত এই দুই প্রকাশ মাধ্যমে যত্নশীল, নিবেদিতপ্রাণ ও ঐকান্তিক সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি মান্নান স্মৃতি পুরস্কার, মাজেদ সর্দার স্মৃতি পুরস্কার, শেরে বাংলা সাহিত্য পদক- রােটারী ইন্টারন্যাশনাল এওয়ার্ড, বারবা স্পেশাল এওয়ার্ড, অতীশ দ্বীপঙ্কর স্বর্ণপদক, নন্দিনী সাহিত্য পুরস্কার, লেখিকা সংঘ সাহিত্য পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন স্বর্ণপদক ও লেখিকা সংঘ সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। চীন ভ্রমণের উপর লেখিকার অনবদ্য বর্ণনা গ্রেট ওয়ালের দেশে বইটি।