User login

Sing In with your email

Email Address
Password
Forgot Password?

Not Account Yet? Create Your Free Account

Send

Recipients:
Message:

Share to your friends

Copy link:

    Our Price:

    Regular Price:

    Shipping:Tk. 50

    • Size:
    • Color:
    QTY:

    প্রিয় ,

    সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
    মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?

    Please Login to Continue!

    Our User Product Reviews

    Share your query and ideas with us!

    Customer Reviews

      By Abubakar

      14 Sep 2019 11:26 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      বর্তমানে যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনা করেন তারা ইসলামকে অনেকক্ষেত্রেই ইসলাম আর মুক্তিযুদ্ধকে দুটি ভিন্নধর্মী বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন । ইসলামের নামে পাকিস্তান তৈরি হলেও এই পাকিস্তান সরকার এর মুনাফিকি এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ বুঝে গিয়েছিল ততদিনে। কিন্তু ধর্মকে ব্যবহার করেই অধর্ম করতে পাকিস্তান সরকার পিছপা হয়নি। বাঙালীদের দমন পীড়ন শুরু হয়ে গেল সব ক্ষেত্রে এবং অনিবার্য ফলাফল হিসেবে ৭১-এর আগমন। শুরু হলো ইসলামের নাম দিয়ে গণহত্যা। সেই সময়ের কয়েকটি ইসলামপন্থী দল স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার ফলে সেক্যুলারপন্থীরা মুক্তিযুদ্ধকে ইসলামের প্রশ্নে বুর্জোয়া ফায়সালা হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মুক্তিযুদ্ধের নির্মাণে ও পরিচালনায় ছিল ইসলামের বয়ান। মুক্তিযুদ্ধকে আল্লাহর পথে জেহাদ বলে হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বাড়িয়েছে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। মাঠের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা ছিল ইসলাম, শক্তি নিয়েছে ইসলাম থেকেই। আলেম সমাজের একটা বড় অংশ মুক্তিযোদ্ধা সক্রিয় অংশ নিয়েছে এবং জনমত গড়েছে। শুধু বাংলাদেশের আলেম-ই নয়, পাকিস্তানি অনেক আলেম ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন। বর্তমানের সেক্যুলারপন্থীরা অনেকেই মনে করেন রাজাকার মানেই যারা দাড়ি টুপি পাঞ্জাবিওয়ালা বা ধর্মভিরু মানুষরা তারাই ছিল , যা আমাদের তরুন প্রজন্মকে এমন ম্যাসেসটাই জানানো হচ্ছে । অথচ দেশের অনেক আলেম ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন এই ম্যাসেসটি জানানো হয় না । যার কারণে অনায়াসেই অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছে । লেখক এই বিষয়টা স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন যে ইসলাম কখনো মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতার বিরোধী ছিল না । তবে ধর্মের নামে ধর্মব্যাবসায়ী সে সময় ও ছিল । এছাড়াও যুদ্ধকালীন রাজনীতি নিয়েও চমৎকার ভাষায় চমৎকার কিছু কথা তুলে ধরেছেন লেখক। বিস্তারিত ত্বত্ত ও প্রমান সহ উল্লেখ করেছেন বইটা সকল ইসলাম প্রিয় সচেতন পাঠকদের পড়ে দেখার অনুরোধ রইল।

      By Tuhin Mazhar

      14 Sep 2019 11:28 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      এটা বললে ভুল হবে না যে, কুরআনের বিভিন্ন আয়াত যোদ্ধাদের স্পৃহা, মনোবল যথেষ্ট বাড়িয়েছিল। কারণ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব বোঝাতে কুরআনের বিভিন্ন আয়াত নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হতো। এছাড়াও সরকারী ঘোষণাবলি, সভা সমাবেশে নেতাদের বক্তৃতায় ছিলো ইসলামের বাণী সম্বলিত জাগানিয়া আহ্বান। মোটকথা হলো, মুক্তিযুদ্ধের রন্ধ্রে রন্ধ্রেই ইসলাম ছিল সুমহান এবং প্রেরণার অন্যতম উৎস। ছিল তার প্রতিটি অধ্যায়ে, প্রতিটি পদক্ষেপে। তাহলে আমরা যে ইতিহাসটি জানি, মুক্তিযুদ্ধের যে চিত্রটি আমাদের স্মৃতিপটে ভেসে উঠে ওটার রচয়িতা কারা? রাজাকার মানেই দাড়ি, টুপি, পাঞ্জাবী- মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার মানেই তো এমন ছিল না! এসব ধ্যান ধারণা আমাদের দেখানো হচ্ছে তাহলে কিসের ভিত্তিতে? এটা কি তাহলে উদ্দেশ্যমূলক? আমাদেরকে কেন তাহলে মিথ্যা বয়ান শেখানো হচ্ছে? সত্যটা আড়ালে রাখা হয়েছে কেন? রহস্য থেকে যায়! এ বইটির প্রতিটি পাতাই এমন অসংখ্য তথ্য আমাকে আপনাকে শিহরিত করে তুলবে। যা আমাদের কল্পনার বাহিরে! এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি যেমন নতুন করে ভাবতে শেখাবে, ঠিক তেমনি মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ভালোবাসাকে আরো বহুগুণে বৃদ্ধি করবে।

      By Ahmmed Ullah mohit

      31 Jul 2019 07:35 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      মুক্তিযুদ্ধের সয়ম কিভাবে ধর্মকে ব্যবহার করছে মুজিবনগর সরকার, আবার ৭২ এর সংবিধানে ধর্মকে বাদদেওয়া হয়েছে। ইসলামকে সার্থের জন্য নির্মম ভাবে ব্যবহার করেছে সবাই।মুক্তিযুদ্ধের কারণে লাভবান কারা হয়েছে অনবদ্য ভাষায় ব্যক্ত করেছে লেখক।

      By Muhammad Tanjim Farhat

      07 Jan 2018 11:04 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      বুক রিভিউ ৪৮ বুক রিভিউ : মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম লেখক : পিনাকী ভট্টাচার্য প্রকাশনী : গার্ডিয়ান পাবলিকেশনস রেটিং : ৫/৫ ধরণ : ইসলাম ও বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ! ৯ টি মাস এদেশের সাধারণ মানুষের রক্ত,ঘাম, পরিশ্রম, সম্ভ্রম, অর্থ ও ত্যাগের বিনিময়ে যেই মুক্তি, যেই স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি তাই তো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। আজ আমরা যারা নবীন তারা যুদ্ধ দেখিনি কিন্তু আমাদের ও ৭১ নিয়ে জ্ঞানের অভাব নেই, আমরা ও গবেষণা করি, আমরা আমাদের চেতনা রক্তে ধারণ করি। কিন্তু যেই চেতনা রক্তে ধারণ করি তা কতটুকু শুদ্ধ? কতটুকু ইতিহাস নির্ভর? ভেবে দেখেছি কি? মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের দেশে একটা বয়ান হাজির আছে। সেই বয়ানে ইসলাম অনুপস্থিত। আমাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করানো হয়েছে ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে অপ্রাসঙ্গিক ছিল। মুক্তিযুদ্ধ শুধুমাত্রই জাতিগত মুক্তির লক্ষ্যেই সম্পাদন হয়েছিল। কিন্তু আরেকটি জিনিস অলিখিত ই থেকে গেলো..... ইসলামের নামে পাকিস্তান তৈরি হলেও এই পাকিস্তান সরকার এর মুনাফিকি এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ বুঝে গিয়েছিলো ততদিনে। কিন্তু ধর্মকে ব্যবহার করেই অধর্ম করতে পাকিস্তান সরকার পিছপা হয়নি। বাঙালীদের দমন পীড়ন শুরু হয়ে গেলো সব ক্ষেত্রে এবং অনিবার্য ফলাফল হিসেবে ৭১ এর আগমন। শুরু হলো ইসলামের নাম দিয়ে গণহত্যা। সেই সময়ের কয়েকটি ইসলামপন্থী দল স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার ফলশ্রুতিতে সেক্যুলারপন্থীরা মুক্তিযুদ্ধকে ইসলামের প্রশ্নে বুর্জোয়া ফায়সালা হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মুক্তিযুদ্ধের নির্মাণে ও পরিচালনায় ছিলো ইসলামের বয়ান। মুক্তিযুদ্ধকে আল্লাহর পথে জেহাদ বলে হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা দের মনোবল বাড়িয়েছে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। মাঠের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা ছিলো ইসলাম, শক্তি নিয়েছে ইসলাম থেকেই। আলেম সমাজের একটা বড় অংশ মুক্তিযোদ্ধা সক্রিয় অংশ নিয়েছে এবং জনমত গড়েছে। শুধু বাংলাদেশের আলেম ই নয়, পাকিস্তানি অনেক আলেম ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন। অথচ আমাদের অনেকটা জোর করে এই বিশ্বাস করানো হয়েছে ইসলামী চেতনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিশব্দ। ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কখনোই এক ধারায় চলতে পারেনা কারণ ইসলামী রাষ্ট্র থেকে প্রাপ্ত জুলুম নির্যাতনের ফলেই পাওয়া স্বাধীনতা। কিন্তু কখনোই তা গবেষণা হয়নি কিভাবে ইসলাম এই দেশের জনগোষ্ঠী লড়াই এর প্রেরণা হয়ে উঠলো, কিভাবে মানুষের মনন ও গঠন তন্তুতে ইসলাম স্থায়ী আসন নিয়ে তার কারণ কেও কোনো দিনো তালাশ করেনি বরংচ মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলামের মধ্যে কৃত্তিম বিরোধ লাগানোতেই সদা তৎপর ছিল বিশেষ এক গোষ্ঠী। ইতিহাসের সেই অব্যক্ত কথা গুলো অনুসন্ধান ও গবেষণার মধ্য দিয়েই পিনাকী ভট্টাচার্য যেই সত্য উন্মোচনের যাত্রা শুরু করলেন তা তো মাত্র শুরু। সামনে হয়তোবা এমন অনেক পিনাকী ভট্টাচার্যের আগমন ঘটবে যারা এই বই টির প্রেরণা নিয়ে এগিয়ে যাবে। আবিষ্কার করবে চেতনার নানান রূপ। ছড়িয়ে দেবে সবখানে মুক্তিযুদ্ধের রঙ। ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া: প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদের পর গার্ডিয়ান এর বেস্ট সেলার বই হলো মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম। মূলত নাম টা দেখেই বই টি কেনা, একটু ভিন্ন মাত্রার স্বাদ নেয়ার জন্য। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন লেখকের লেখা পড়ে ও বইপত্র পড়ে মাথায় এটা ঢুকে গেছিলো মুক্তিযুদ্ধে হুজুর রাই রাজাকার ছিলো, দাড়ি টুপি ওয়ালা মোল্লারাই ৭১ র বিরোধিতা কারী। অনেক আগেই সেই ভুল ধারণা ভেঙে গেছে এবং এই বই টি সেই ভুল ধারণার বিপক্ষে এমন কিছু কথা ও দলিল হাজির করেছে আমি নিজেই চমকে গিয়েছি। এতটা আশা করিনি। কারণ আমি চিনতাম না মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু মাওলানা সাইয়্যেদ আসঅাদ মাদানী (র.) কে, চিনতাম না শাইখুল হাদিস মাওলানা আজিজুল হক কে, চিনতাম না হাফেজ মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুর কে। বই টি বয়ান আমাকে পরিষ্কার ভাবে চিনিয়ে দিয়েছি কো উদ্দেশ্য কারা ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধকে পাশাপাশি দাড় করাবার বদলে মুখোমুখি এনে দাড় করিয়েছে। রাজাকার মানেই কারা দাড়ি টুপি পাঞ্জাবি ওয়ালা মানুষ দের চিনায় অথচ একটি দেশে যখন সংঘাত বা গৃহ যুদ্ধ লাগে কিছু মানুষ ভয়ে, কিছু মানুষ টাকার লোভে যুদ্ধকারী দের সাথে থাকেই। রাজাকার বলতে যেই দেশদ্রোহী চিত্র ভেসে ওঠে বই টি দলিল দিয়ে সম্পুর্ণ ভিন্ন সুরে কথা বলছে। এছাড়াও যুদ্ধকালীন রাজনীতি নিয়েও চমৎকার ভাষায় চমৎকার কিছু কথা তুলে ধরেছেন লেখক। কিছু জানবার জন্য বা বই টির বিরোধিতা করবার জন্য হলেও একবার পড়ে দেখার অনুরোধ রইলো। বই টিতে আসলেই কোনো ভুল থাকলে তা পড়ে বের করে সবাইকে জানাতে হবে, নাম দেখেই যদি বিরোধিতা করলে কোনো লাভ নেই। বই টি কি সংগ্রহে রাখার মত? রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় তো বটেই, বাংলাদেশের রাজনীতির নাড়ীর যোগটা যারা ধরতে চাইবেন, আগামীদিনের বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ বা নতুন রাজনীতির পরিগঠন করতে যারা ইচ্ছুক, তাদের সকলের জন্য চমৎকার এই বইটি অবশ্যই ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখার মত।

      By Imam Abu Hanifa

      03 Nov 2017 10:22 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      বিশ্বের সবচেয়ে মানসম্মত অভিধান হিসেবে ধরা হয় অক্সফোর্ড ডিকশনারিকে। প্রতি বছর এই অভিধানের নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়। প্রতি সংস্করণে বিগত বছরের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শব্দ জরিপ করে উল্লেখ করা হয়। আমার যতদূর মনে পড়ে ২০১৪ সালে অক্সফোর্ড ডিকশনারি মতে সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শব্দ ছিলো 'সেলফি'। বাংলাদেশে পরিস্থিতি চিন্তা করলে আমার ধারনা গত দশ বছরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শব্দ হতে পারে 'চেতনা'। কথায় কথায় এই চেতনা আমাদের নাড়া দেয়। চেতনা শব্দটা পুরাতন হলেও 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা' নামক শব্দদ্বয় থেকে চেতনা শব্দের এই জনপ্রিয়তা। বর্তমান দেশের পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিশব্দ হলো ইসলামী চেতনা। কিন্তু ৮৫% মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশে ইসলামী চেতনা কি আসলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিশব্দ? এটাই ব্যাখ্যা করা চেষ্টা করেছেন লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের দেশে একটা বয়ান আছে। সেই বয়ানে ইসলাম অনুপস্থিত। আমাদের বিশ্বাস করানো হয়েছে ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে অপ্রাসঙ্গিক ছিলো। এভাবেই তৈরি হয়েছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য নির্মাণ। ইসলাম শুধু যে অনুপস্থিত তা নয়; কখনো আসামী, কখনো পরাজিত। কিন্তু গল্পটা আসলে উল্টা। বলা যায় ১৮০ ডিগ্রী বিপরীত। আমাদের দেশে মুক্তিযুদ্ধে ইসলামের অবদান নিয়ে কখনো কোনো গবেষনা হয়নি। প্রচলিত ধারনার বশবর্তী হয়ে কেউ হয়ত এর প্রয়োজন বোধ করেন নাই। মুক্তিযুদ্ধে ইসলামের ভূমিকা কি ছিলো, কীভাবে ইসলামের বয়ান মুক্তিযুদ্ধকে শক্তিশালী করেছে, অবদান রেখে সাহায্য করেছে তা কখনো বিশ্লেষণ করে দেখা হয়নি। তাহলে, শিরোনাম থেকে যে প্রশ্নটা জাগে, তার উত্তর পেতে নিশ্চিতভাবেই প্রচলিত ব্যাখ্যার বাইরে গিয়ে একটা নতুন বয়ান অনুসন্ধানে নামতে হবে। যদি তাই হয়, সেক্ষেত্রে আমাদের সামনে প্রশ্ন হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, প্রেরণা, আকাঙ্ক্ষার ভাষা, যুদ্ধের ন্যায্যতা নির্মাণ ও পরিচালনায় উপাদান ও আশ্রয় হিসেবে ইসলাম কোথায়, কতটুকু উপস্থিত ছিলো? তার ব্যাপ্তি ও গভীরতা কতটুকু? শুধু ব্যাপকতার নিরিখেই নয়, পাশাপাশি ইসলাম এই বয়ান সংগঠনে কতটা নির্ধারক ভূমিকা রেখেছে, তা স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা থেকে যুদ্ধকালীন সময়ের দলিল, রাজনৈতিক প্রচার-পুস্তিকা ও ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সুসংহতভাবে দেখানো সম্ভব কি না? লেখক তা বেশ জোরালোভাবেই দেখাতে পেরেছেন বলা যায়। আর তা এমন ক্ষেত্র উন্মোচন, যা দেশের জাতীয়তাবাদী সেক্যুলার বয়ানের ঐতিহাসিক অসারতার বাইরে এসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে পুনরায় পাঠ করার নতুন প্যারাডাইম তৈরি করতে সক্ষম। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে যেসব লেখাপত্র আছে, তা বোধগম্য কারনেই বাংলাদেশের ইতিহাসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানকে কখনোই আলোচনাে অন্তর্ভুক্ত করে না। সেই দুটি উপাদান হলো- ১/ পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলন নিজেদের দাবি-দাওয়া জনগোষ্ঠির কাছে যে ভাষায় হাজির করে তাকে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিন্দুতে উপণীত করেছে সেই সমস্ত ভাষ্য, কর্মসূচি, প্রচার-পুস্তিকা। ২/ মুক্তাযুদ্ধের সময়ে যে বয়ান ও ভাষ্যকে আশ্রয় করে যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে। পিনাকী ভট্টাচার্য এই দুটি উপাদানকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছেন। বাঙালিদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইসলামী চেতনা যে একে অপরের পরিপূরক সেটা নতুন ভাবে পাঠক সমাজের কাছে তুলে ধরেছেন লেখক। বইয়ের শেষে জনপ্রিয় কলামিস্ট গৌতম দাসের "মুক্তাযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম: প্রসঙ্গ কথা" নামক পরিশিষ্ট এই বইয়ের শ্রেষ্ঠ অলংকার। এই অংশে তিনি ৪৭ এর দেশ বিভাগ, দেশ বিভাগের পূর্ব ও পরবর্তী মুসলিম লীগ, ৭১ এর আগে পাকিস্তান সম্পর্কে বাংলাদেশিদের ধারনা প্রভৃতি বিষয়ের পোস্ট মর্টেম করেছেন। নিখুত বিশ্লেষনে এই উপমহাদেশের রাজনীতি নিয়ে আপনাকে নতুন ভাবে ভাবতে বাধ্য করবে। নতুন প্রকাশনী হিসেবে গার্ডিয়ান প্রকাশনী অল্প দিনেই অসাধারন কিছু বই দিয়েছে পাঠক সমাজকে। প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদের পরে এই বইটা আশা করা যায় পাঠক সমাজে নাড়া দিবে। সেক্যুলার পন্থিদের মাথাব্যথার কারন হবে সেটা বলা বাহুল্য। বইয়ের প্রচ্ছদ, পেজ, বাইন্ডিং অসাধারন। সবচেয়ে আনন্দের বিষয়, অনেকদিন পরে একটা বই এক বসায় শেষ করলাম।

      By Rakib Hasan

      10 Jan 2018 07:26 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      #রকমারি_বইপোকা_রিভিউ_প্রতিযোগিতা বইয়ের নাম: মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম লেখক : পিনাকী ভট্টাচার্য। প্রকাশক : গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স রেটিং : ৫/৫ ধরণ : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা গাত্রমূল্য : ২৫০ টাকা। রকমারি মূল্য : ১৮৮ টাকা। আমাদের দেশের কিছু মানুষের আচরণ আর কথাবার্তা শুনলে মনে হতে পারে, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিতই হয়েছিল এই দেশ থেকে ইসলামের নাম চিহ্ন মুছে দেবার জন্য। তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে ইসলামকে ইরেজার ঘষে মুছে দিতে চায়, যেন মুক্তিযুদ্ধে ইসলামের কোন ভূমিকাই ছিল না। তারা এদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনা করছে, পাঠ্য করছে ইসলামকে দূরে সরিয়ে রেখে। যেন ইসলাম আর মুক্তিযুদ্ধ, দুটি দুই মেরুর বিষয়, যেন একে অপরে দা-কুমড়া বা সাপে নেউলে সম্পর্ক। যেন আগুন ও কাঠ। তারা তাদের সাহিত্যে, বিনোদনে কিংবা আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধের বিপরীতে ইসলামকে দাড় করাতে চায় আসামী হিসেবে। তারা প্রমাণ করতে চায় , মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানেই ইসলাম বিরোধীতা। সত্যিই কি তাই? আসলেই কি মুক্তিযুদ্ধে ইসলামের কোন ভূমিকা ছিল না? নাকি এটি সুদূর প্রসারী কোন ষড়যন্ত্রের অংশ? মহান মুক্তিযুদ্ধে কী ছিল ইসলামের ভূমিকা? কোত্থেকে এল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ইসলামের বিরোধীতা? এসবেরই শেকড় সন্ধানে পিনাকী ভট্টাচার্য লিখেছেন মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম। পাতায় পাতায় তথ্য-প্রমাণ ও সচিত্র উপস্থাপনা বইটিকে করে তুলেছে অনবদ্য এক ইতিহাস-নদী। স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষেতা আর অনুসন্ধিৎসার সুস্পষ্ট সাক্ষর রয়েছে বইটি জুড়ে। বইটি পড়তে পড়তে একবারও মনে হয়নি লেখক কোন গোঁজামিল দিয়েছেন কোথাও, কিংবা কোন মিথ্যে, অসার গল্পে অথবা জোর খাটিয়ে কিছু প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। অনেক প্রশ্ন আর মনের ভেতর খচখচ করতে থাকা অনেক বিভ্রান্তির ধুলো পরিস্কার হয়ে উত্তর গুলো আয়নার মতো ঝকঝকে হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলামের মধ্যে যে কৃত্রিম বিরোধ লেগে আছে সেটা কোত্থেকে এবং কারা লাগিয়েছে, কেন লাগিয়েছে এসব হয়ে গেছে একেবারে পরিস্কার। বইটি সম্পর্কে লেখকের মূল্যায়ণ তাই যথাযথই। “ ৭১’ এর বাংলাদেশ যে সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারতো, সেটা করতে না দিয়ে ইসলামের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের একটা কৃত্রিম বিরোধ লাগিয়ে রেখেছে সেক্যুলার মহল। ‘মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম’ সেই কৃত্রিম বিরোধের ধুলা কালি সরিয়ে মুক্তিযুদ্ধের এক নতুন বয়ান উপহার দিবে। মুক্তিযুদ্ধের সেক্যুলার কফিনে এই বই হয়ে উঠবে শেষ পেরেক।” অসাধারণ একটি বই। রকমারী.কম এও পাওয়া যাচ্ছে। বইটি পড়তে সবারই ভাল লাগবে আশা করি।

      By murad

      03 Nov 2017 02:29 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      বইটির লেখক পিনাকী ভট্টচার্য। সাম্প্রতিক সময়ে ইসলাম বিষয়ে লেখালেখি ও গবেষণায় সাড়া জাগিয়েছেন। করছেন গবেষণা। মুক্তিযুদ্ধের প্রচলিত ইতিহাসগুলোতে ইসলামকে এড়িয়ে চলার একটা গতি লক্ষ করা যায়। সেখানে ‘মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম’ মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ইসলামিক বয়ানগুলো হাজির করেছে। ঐতিহ্য বা হেরিটেজ আসলে ঐতিহাসিকভাবে নির্মিত এক একটি ডিসকোর্স বা বয়ান। অর্থাৎ ইতিহাসের হাত ধরে গড়ে ওঠে এমন একটা চলতি বয়ানই হচ্ছে ঐতিহ্য বা হেরিটেজ। এই ঐতিহ্যকে আমরা কোন সচেতনতা ছাড়াই বহন করি, তার উৎস বা কার্যকারন না জেনেই। রোলা বার্তে তার মিথোলজিস বইয়ে বলেছেন, আমরা যেই বাস্তবতার মধ্যে বসবাস করি তার জমিনটা তৈরি করে দেয় ইতিহাসের কোন বয়ানের মধ্যে আমরা বাস করি তা। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের লড়াই হয়েছিল পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্জনের জন্য। পাকিস্তানি শাসকেরা ইসলামের নাম নিয়ে তাঁদের গণহত্যা জায়েজ করতে চেয়েছে। আবার সেইসময়ের কয়েকটা ইসলামপন্থী দল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী অবস্থান নেয়ার জন্য এইদেশের বাম ও স্যেকুলারপন্থীরা মুক্তিযুদ্ধকে ইসলামের প্রশ্নে বুর্জোয়া ফয়সালা হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছে। কিন্তু আসলে মুক্তিযুদ্ধের নির্মানে, মুক্তিযুদ্ধের পরিচালনায় ইসলাম ছিলো প্রাধান্য বিস্তারকারী বয়ান। মুক্তিযুদ্ধকে স্বাধীন বাঙলা বেতার ‘আল্লাহর পথে জেহাদ’ বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। মাঠের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা ছিল ইসলাম, তারা শক্তি নিয়েছে ইসলামের ন্যারেটিভ থেকে। স্বাধীন বাঙলা সরকারের বক্তব্য বিবৃতিতে ইসলাম ডমিন্যান্টভাবে বর্তমান ছিলো। দেওবন্দী ধারার আলেমরা দেশে এবং বিদেশে এমনকি খোদ পাকিস্তানে বসে কেউ মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সহমর্মিতা, আর কেউ আন্তর্জাতিক সংহতি সৃষ্টিতে ভুমিকা নিয়েছেন। দেশের আলেমদের অনেকেই সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে। তাঁরা সবাই এই লড়াইকে জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই বলেই অভিহিত করেছেন।

      By shahmun

      14 Oct 2017 12:29 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      #মুক্তিযুদ্ধের_বয়ানে_ইসলাম_#_প্রসঙ্গে--- সোশ্যাল মিডিয়ায় 'মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম' বইটি নিয়ে বেশ হইচই দেখছি। বইটির (এরকম) নাম শুনে আমার ভালো লাগেনি, বিরক্ত লেগেছে। কিন্তু বইটির লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য এবং প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্সের নাম দেখে একটু নড়ে চড়ে বসি। আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশে ইসলাম একটি অতি সস্তা প্রোডাক্ট। (মন্তব্যের এই সরলীকরণের জন্য আমি পাঠকদের নিকট বিনীত ভাবে ক্ষমা চাই)। আবেগপ্রবণ বাঙ্গালী ইসলামপন্থী জনতার দৃষ্টি কাড়তে ইসলামবিদ্বেষী কিছু উত্তেজক কথা কিংবা ইসলামের পক্ষে সুমধুর প্রশংসা বাক্য ছড়িয়ে দিলেই, সেটা রাতারাতি হিট- এমন একটা বিশ্বাস ও ধারণা সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। এই বিশ্বাস ও ধারণার প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চয় আপনারাও প্রতিনিয়ত দেখছেন, বুঝছেন। তাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসলামকে আলোচনার সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আনার পেছনে ইসলামপন্থীদের অবদান বেশী না, ইসলাম-বিদ্বেষীদের অবদান বেশী, সেটা নিয়ে আমি মোটামুটি কনফিউজড! বাংলাদেশের তথাকথিত সেক্যুলারদের আদর্শিক ও অবস্থানগত দেউলিয়াপনা কে একাডেমিক্যালি চ্যালেঞ্জ করে পিনাকী ভট্টাচার্যের লেখাগুলো বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এতদিন ইসলামের কর্মপন্থা নিয়ে সেক্যুলারকূল প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, চ্যালেঞ্জ করেছে। এখন দেখি, তাদেরই গোত্রচ্যুত একজন উল্টো সেক্যুলার পলিসি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা শুরু করেছে। আমি এই 'প্রশ্ন লড়াই' বেশ উপভোগ করি। পিনাকী ভট্টাচার্য সম্পর্কে অনেকে আমার কাছে জানতে চায়, কী তাঁর আদর্শ-উদ্দেশ্শ? প্রথম প্রথম এর জবাবে আমি মুখস্থ বলে দিতাম- ভাই আমি অত জানিনা, কমিউনিস্টদের হতাশ অংশ ব্যবহারিক রাজনীতিতে এসে ক্ষমতার চর্চাকেন্দ্রীক দ্বন্দ্বে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। পিনাকী ভট্টাচার্য তাদেরই একটা অংশের নেতা ও এক্টিভিস্ট হবে হয়তো। তিনি সম্ভবতঃ তাঁর রণকৌশল হিসেবে ইসলামপন্থীদের কাছে টানার চিন্তা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন.......! এমনিতেই পড়ালেখা না করার বাজে স্বভাব আমাকে পেয়ে বসেছে এবং পারতপক্ষে গুরুগম্ভীর ডিস্কাশন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। কিন্তু পিনাকী ভট্টাচার্য কে নিয়ে আমার হেয়ালীপূর্ণ ঢিল নিক্ষেপে আমি খুব বেকায়দায় পড়ি। আমার যারা স্বজন, আমি যাদের খুব মান্য করি এবং ইন্টেলেকচুয়াল হিসেবে পছন্দ করি, তারা জোর করে আমাকে পিনাকী ভট্টাচার্যের লেখা পড়তে বাধ্য করেন। বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখা পড়তে শুরু করি ফেসবুকে....। ভদ্রলোক ডাক্তার কিন্তু রাজনৈতিক বিষয়ে তার সাহসী লেখনী সত্যিই আমাকে চমৎকৃত করে। বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বেশী অভাব সাহসের, মাথা উঁচু করে সত্য কথা বলার। স্রোতের বিপরীতে চলা মানুষ সবসময় শোষিত, লাঞ্চিত, নীপিড়ীতের ভালোবাসায় সিক্ত হয়। সে বিচারে আমি মজা করে পিনাকী ভট্টাচার্য কে বলে থাকি "হাই ভোল্টেজ সেলিব্রেটি"! কিছুদিন আগে তার 'মার্কিন ডকুমেন্টসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ'১৯৭১- বইটি প্রকাশ পায়। বইটি পড়ে একজন অধ্যাপক আমাকে ফোন করে জানতে চান- আচ্ছা পিনাকী ভট্টাচার্য কি আমেরিকান এজেন্ট? আমি কোন দ্বিধা না করেই উত্তর দিলাম- 'হতে পারে'। তিনি গলা চড়িয়ে অবাক হয়ে আবার জানতে চাইলেন, 'কি বললে'? এবার আমি বললাম- 'না ও হতে পারে'। বাংলাদেশে আমরা খুব সহজেই একে অপরকে এজেন্ট বানাই, গোয়েন্দা সংস্থা গুলো মাঝখানে ফাও বাহবা পায়....। সে যাই হোক- বলছিলাম, 'মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম' বইয়ের কথা। কিছুদিন আগে লন্ডন থেকে লেখক ও গবেষক এডিএম ইউনুস আমাকে বইটা সংগ্রহ করার অনুরোধ জানিয়ে বার্তা পাঠান। তিনি আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ। আমি তাঁকে বললাম, বইটি তো এখনো বাজারে আসেনি। তিনি বিস্মিত হলেন, 'না বের হতেই এত আলোচনা'! তাঁর পূনঃতাগিদে অনেক খোঁজাখুঁজি করে বইটির খসড়া পান্ডুলিপি সংগ্রহ করি। বিশ্বাস ও জীবনবোধের সহজাত দর্শন হিসেবে 'ইসলাম' বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের অস্তিত্ব স্বরুপ। হাজার বছরের পথ পরিক্রমায় আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিবর্তন পেরিয়ে ইসলাম, মুসলমান এবং বাংলাদেশ আজ একাত্মা হয়ে গেছে। আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক অধিকারের গৌরবময় অধ্যায়। আন্দোলন, সংগ্রাম ও জীবনপণ করা নয়মাস যুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ভূখন্ডের অধিকারী হওয়া আমাদের অবিস্মরণীয় অর্জন। 'ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ'- এ দুটোর আবেগ নিঃসৃত শিহরণ একই সঙ্গে আমাদের চেতনায় প্রতিভাত। কেবলমাত্র রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে এই দুটির সাথে যারা তুলনা বা বিরোধ তৈরী করতে চান- তারা প্রাণীজ সত্বায় হয়তো মানুষ কিন্তু বিবেক ও মানবিক সত্বায় নয় বলে আমি মনে করি। কেউ যদি আমাকে প্রশ্ন করে, পৃথিবীতে থাকবেন না কি বাংলাদেশে? দুটোর একটি বেছে নিন- তখন আমার জবাব কী? আমি বলবো, পৃথিবীর বুকের মধ্যে যেখানে আমার সুজলা সুফলা বাংলাদেশ সেখানটাতে আমি থাকবো। পৃথিবীর মধ্যে না থাকলে বাংলাদেশে থাকি কী করে? তেমনি 'ইসলাম' হল আমাদের পৃথিবী আর 'মুক্তিযুদ্ধ আমার বাংলাদেশ....। আমি যতটুকু পড়েছি তাতে 'মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম' বইয়ের সারকথা হলো, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হওয়া ও বিজয় অর্জনের সাথে কোনো ধর্ম-বিশ্বাস; বিশেষতঃ ইসলামের কোনো ক্লেশ নেই। উপরন্তু লেখক এই বইতে এমন অনেক ঐতিহাসিক তথ্য হাজির করেছেন তাতে আমার উপলব্ধি হয়েছে যে, পাকিস্তানী শোষক শ্রেণী তাদের অপকর্ম, দূঃশাসন, গণহত্যা ঢাকার জন্য ইসলামের খোলস বা আবরণকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলো। কিন্তু ভাটি বাংলার ধর্মপ্রাণ মুসলমান সঠিক ইসলামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তা নস্যাৎ করে দিয়েছে। তাহলে এখন বয়ানটা কি দাঁড়ালো? বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কী ইসলাম বনাম সেক্যুলারিজমের দ্বন্দ্ব! না ইসলামের লেবাসধারী স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রকৃত ইসলামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই? আবহমানকাল ধরে বাংলার মানুষের মনে অন্যায় শোষনের বিরুদ্ধে যে স্বতস্ফুর্ত চেতনা-আসলে এর উৎস কী? আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, এর প্রধান উৎস হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষের ইসলামী জীবনবোধ ও বিশ্বাস। মানুষ আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি, অন্যায় ও শয়তানী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও লড়াই করা তার ঈমানী দায়িত্ব। এই দীক্ষার সামনে ২০০ বছরের বৃটিশ শাসন বারবার চ্যালেঞ্জের সম্মুক্ষীণ হয়েছে। পাকিস্তানী শোষকদের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন সংগ্রাম ও মহান মুক্তির মহান যুদ্ধ, কাগজে কলমে এবং বাস্তবতায় দেখলে দেখা যাবে সেটা পুরোটাই প্রকৃতার্থে ইসলামের লেবাসধারীদের বিরুদ্ধে ইসলামের প্রকৃত চেতনায় উদ্বুদ্ধবাদীদের মুক্তি সংগ্রাম। খান সেনারা যখন মুসলিম জাতীয়তাবাদ ও ইসলাম কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তানের সংহতি রক্ষার নামে তাদের জুলুম নির্যাতন কে বৈধ করার চেষ্টা করলেন, তখন অনেকে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। ইসলাম, মুসলমান ও পাকিস্তান কে সমার্থক বানানোর চেষ্টায় অনেক ইসলামী দলও তাদের অনুকুলে সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু এর বিপরীতে বীর বাঙ্গালীর চেতনা ও উদ্দীপনা কি ছিল? সেটাকি সেকুলারিজম না ইসলামের খাটি দেশাত্মবোধ! সেটা কি খাঁটি বাঙ্গালীয়ানার তেজস্বীতা না অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের ঈমান তেজোদ্দীপ্ত প্রতিরোধ যুদ্ধ বা জিহাদ? যেসব বীর জওয়ানরা মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের প্রাক্কালে চোখের জলে বুক ভাসিয়ে পরিবার থেকে বিদায় নিয়েছিলেন তাদের প্রতি মা বাবার শেষ বাক্য কি ছিল? নিশ্চয়ই সেটা ছিল- আল্লাহ ভরসা, আল্লাহ হাফেজ কিংবা ফি আমানিল্লাহ! ইতিহাসের এসকল অমোঘ সত্য কে কি কেউ অস্বীকার করতে পারবেন? আর তাইতো যারা মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছেন তাদের কে এ জাতি ইসলামের পবিত্র শাহাদাতের মর্যাদায় সমাসীন করেছেন, তারা অমর 'শহীদ'। এমনকি অমুসলিম যোদ্ধাদের নামের আগেও শহীদ শব্দ ব্যবহারে কার্পণ্য করা হয়নি। বাংলার ঘরে ঘরে মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়ের জন্য আয়োজন হয়েছিল খতমে কোরআন, রাখা হয়েছিল রোজা। আর চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী সত্যের কাছে হেরেছিল মিথ্যা, হকের সামনে পদানত বাতিল। মজলুমের ঈমান আকীদার সংগ্রামের কাছে ধরাশায়ী মিথ্যা ও জুলুম শোষনের প্রতিভূ পাকিস্তানী সেনাতন্ত্র। তাহলে এতদিন যে আমাদের জানানো হলো- ৭১ এর যুদ্ধ ইসলাম বনাম বাংঙ্গালী জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষেতার লড়াই? মুক্তিযুদ্ধের কোন প্রেরণার পেছনে আছে মঙ্গল প্রদীপ? কোথায় আছে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শপথ? এতদিন যারা এসব মুখস্থ বুলি আওড়িয়ে গেছেন, তারা কারা? কেন কী উদ্দেশ্যে দিনের পর দিন এ অসত্য, মিথ্যা ও জিঘাংসামূলক বিশ্লেষণ শুনিয়ে আসছেন? তাদের স্বরুপ এবং সার্বিক উদ্দেশ্শ-বিধেয় আশাকরি ভালোভাবে বোধগম্য হবে 'মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম' বইটি পড়লে। এ বই নিয়ে হয়তো ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হবে। কিন্তু ইতিহাসের একটা মৌলিক উপাত্ত বইটির মাধ্যমে সত্য আকারে মজবুত ভিত্তি তৈরী করবে বলে আমার বিশ্বাস। স্বীকৃত গবেষক না হয়েও পিনাকী ভট্টাচার্য এরকম মৌলিক বিষয়ে কলম হাতে নেয়ায় তাকে সাধুবাদ জানাই। গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স ভালো ভালো বই প্রকাশ করে সৃষ্টিশীলতায় যে আলোড়ন জাগিয়েছে তা সাফল্যের সাথে বজায় থাকুক- এই প্রত্যাশা করি।

    •  

    Recently Viewed


    Great offers, Direct to your inbox and stay one step ahead.
    • You can pay using


    • 16297 / 01519-521971(Hotline)

    • +8801708166234-38 (Corporate Sales)

    • [email protected]

    • 2/2E Arambag Motijheel,
      Dhaka-1000

    Rokomari.com is now one of the leading e-commerce organizations in Bangladesh. It is indeed the biggest Online Bookshop of this country that helps saving a lot of time and money. You can buy books online through few-clicks or convenient phone calls. With breathtaking discounts and offers you can buy more from rokomari.com. Superfast cash on delivery service brings the products at your doorstep. Our customer support, return and replacement policies will surely add extra confidence in your online shopping experience. So Happy Shopping in Rokomari.com.