অশিক্ষা, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠস্বর, অপরাজনীতি, অন্যকে ঠকিয়ে বড়লোক হওয়ার প্রবণতা, করোনাকাল, ৫ আগস্ট-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলার অবনতির চিত্রসহ যাপিত জীবনের জীবনসংগ্রামের নানা দিক উঠে এসেছে গল্পগুলোতে।
পরম্পরা ফোড়া : গ্রাম ও শহরের দূরত্ব পেরিয়ে একটি পরিবারিক সফরের ভেতর দিয়ে এই গল্পে উন্মোচিত হয় পুরুষতান্ত্রিক সহিংসতার উত্তরাধিকার, যেখানে বউ পেটানো ও ছেলে-লালসা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলে। দ্বীন ইসলামের জীবনে সেই নিষ্ঠুরতার শিকড় পৌঁছে যায় মায়ের অভিশাপ পর্যন্তÑ যেন সহিংসতাই এখানে এক পরম্পরাগত ফোড়া।
বালতি ও ক্রাচের গল্প : করোনাকালে এনজিওর সহায়তা নিতে গিয়ে এক পা হারানো বাদশা মিয়ার জীবনে দারিদ্র্য, অবহেলা ও নির্ভরতার নির্মম বাস্তবতা ফুটে ওঠেছে।
কেবলা বাবা : বেওয়ারিশ লাশকে পীর বানিয়ে মাজার গড়ে ধর্মভীরু মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে হোসেন শাহ অবৈধ ব্যবসা চালালেও শেষ পর্যন্ত তার ভণ্ডামি ও অপরাধ রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপে প্রকাশ পায়।
ভাগবাঁটোয়ারা : বাবার সম্পত্তির লোভে ভাইবোনদের রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বের শেষে প্রকাশ পায়, যেটা নিয়ে এত লড়াই সেই ভিটাই আসলে কারও ছিল না।
পতিত মানুষের দিনে : রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলার ভাঙনের মধ্যে ক্ষুধা, অসহায়তা ও ভুল সিদ্ধান্তে জড়িয়ে পড়া এক সাধারণ মানুষ গণপিটুনিতে মারা গেলে প্রশ্ন ওঠে—মরল কি ডাকাত, নাকি মানুষই হারিয়ে গেল।
অন্ধ-কালা : গল্পটি দেখায় কিভাবে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পাশে সমাজের অনাদরিত মানুষদের অবহেলা চিত্রিত করে, যা কামালকে ভাবায়—আমরা সবাই কি অন্ধ ও কালা?
অন্ধগলির স্কেচ : করোনাকালে গ্রাম বাংলার মানুষ ঘরে বন্দি থাকলেও ক্ষমতাসীন ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের দুর্নীতি থামেনি, ত্রাণ বিতরণেও স্বার্থপরতা দেখা যায়।
গল্পে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের সঙ্গে দুর্নীতিপরায়ণ নেতাদের ছদ্মবুদ্ধির দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে।