ফরিদুর রেজা সাগর-এর অফিস রুমটিতে প্রবেশ করলেই বিস্মিত হতে হয়। একজন কর্মব্যস্ত মানুষের টেবিলজুড়ে নানা কিসিমের খেলনা, অদ্ভুত, অদ্ভুত জিনিসপত্র-সুদৃশ্য বিশাল টেডি বিয়ার-এর দখলে বড় বড় সোফা, কাঁচের র্যাকে হাজারও রকম বই। সেই বইয়ের রাজ্যে আলাদা করে রাখা থ্রিলার আর রহস্য জাতীয় বেশ কিছু পেপারব্যাক-মাসুদ রানা, কুয়াশা, ফেলুদা, দুস্যু বনহুর ইত্যাদি। খেয়াল করলে দেখা যাবে, এই পেপারব্যাকগুলো বহুল পঠিত এবং বেশ পুরনো। ফরিদুর রেজা সাগর-এর কৈশোরকালের। সেই দূর কৈশোরে, পড়াশোনা, লেখালেখি, বিটিভির অনুষ্ঠান-এসবের পাশাপাশি দুরন্ত মনের দাপটে রহস্য আর থ্রিলার সিরিজে মোহাবিষ্ট ছিলেন ফরিদুর রেজা সাগর। কখনো কিনে, কখনো বন্ধুদের কাছ থেকে ধার করে লুকিয়ে লুকিয়ে মশগুল থাকতেন অবসরে। এক সময়ে যিনি ছিলেন কেবলই পাঠক, সময়ের স্রোতে তিনিই এখন দুর্দান্ত গোয়েন্দা সিরিজের জননন্দিত লেখক। রোমাঞ্চকর কাহিনি, নাটকীয় ঘটনা এবং শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান-সব মিলেমিশে তার সৃষ্টি 'ছোটকাকু' এখন পাঠকপ্রিয় তো বটেই, টেলিভিশন দর্শকদের কাছেও সমাদৃত। এই প্রথম, কোনো সিরিজ বই আকারে প্রকাশের পাশাপাশি ধারাবাহিক রূপে টেলিভিশনের পর্দায়ও দেখার সুযোগ মেলে। সুবিখ্যাত আফজাল হোসেনের নির্মাণ এবং অভিনয়ে 'ছোটকাকু' এখন ঘরে ঘরে জনে জনে এক প্রিয়তম নাম।
রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং একাধিকবার প্রযোজক ও কাহিনিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই গুণী লেখকের জন্ম ১৯৫৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। তিনি প্রায় দেড় শতাধিক বইয়ের লেখক। লিখেছেন মুক্তিযুদ্ধের গল্প, রহস্য উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণ কাহিনি, স্মৃতিকথা।
'বাংলা টেলিভিশনের ৫০ বছর' এই মাধ্যমের অনন্য দলিল। এই ফেব্রুয়ারিতেই প্রকাশ হওয়ার কথা শতজনকে নিয়ে তার লেখা স্মৃতিকথামলক গ্রন্থ 'প্রিয়জন আপনজন'।
ছোটবেলা থেকে তিনি কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা, চাঁদের হাট এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্মলগ্ন থেকেই শিশুকিশোর উপযোগী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রেসিডেন্ট (সান অব পাকিস্তান)-এ অভিনয়ও করেছেন ছোটবেলায়।
মা রাবেয়া খাতুন রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্ত লেখক। বাবা ফজলুল হক দেশের প্রথম চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা 'সিনেমা'র সম্পাদক-প্রকাশক। এবং প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র 'প্রেসিডেন্ট'-এর নির্মাতা।
স্ত্রী কনা রেজা, দুই কন্যা মেঘনা-মোহনা। দুই নাতি-নাতনি মায়রা ও মায়রন। এবং দুই জামাতা নিয়ে তার যাপিত জীবন।