কবি ও কথাসাহিত্যিক সাঈদা আজিজ চৌধুরী সাহিত্য জগতে একটি পরিচিত নাম তাঁর লেখার গুণগত মানের কারণে। তিনি ভিন্নধর্মী কবিতা রচনা করেন সবসময়ই। তাঁর লেখায় প্রাণে স্পন্দন জাগে। যেমন তিনি তাঁর ‘রক্তিম ফুল’ কবিতায় লিখেছেন- ‘এখানে মৃত্যু হাঁটে পায়ে পায়ে গায়ে গায়ে/তবু হেমন্তের অকৃপণ সোনালি হাসি/পূর্ণতা এনে দেয় দৃষ্টির কোণে কোণে/সূর্য-সন্তানের হাসি এ মায়ের কোলে..../ প্রজন্ম জানে না পূর্বসূরীর তিতিক্ষার ঋণ/ধূলিকণার আস্তরণে পদচিহ্ন বিলীন’। এই বাস্তবসম্মত অসম্ভব সুন্দর পঙ্ক্তি আমাদের হৃদয়কে প্রজ্বলিত করে। সত্য কঠিন কিন্তু সেই কঠিনকে তিনি খুবই সহজভাবে বর্ণনা করেছেন।
‘ঘরের মতো মনে হয়’ কবিতায় তিনি বলেছেন-তোমাকে দেখলে ঘরের মতো মনে হয়/সবুজ সোনালি পাতার বৃক্ষ, পরিচ্ছন্ন ঘর/নীরব যাতায়াত, পায়ের শব্দ/বর্ণাঢ্য সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত/রাতপাখি জাগে, কুয়াশা করে/বুকের ভেতর ঘূর্ণি খেলে’---কি চমৎকার বর্ণনা! প্রিয়জনকে প্রকৃতির সাথে তুলনা করে তিনি বুঝাতে চেয়েছেন প্রিয়জনও প্রকৃতির মতোই নরম, সবুজ ও সতেজ। প্রকৃতির সান্নিধ্যে গেলে যেমন আমাদের মনের মধ্যে অসম্ভব ভালো লাগা কাজ করে প্রিয়জনকে দেখলেও তেমনি অনুভূতি জাগে অন্তরে।
‘পুঁইশাকের লতানো দেহের মতো/এক আঁটি প্রত্যাশা মাচা ছেড়ে শূন্যে ঝুলে/বাতাসের ধাক্কায় দুলতে থাকে এলোমেলো/প্রত্যাশার হতাশা ঝরিয়ে আসে না ভোর’। (কবিতা- প্রেম! আহা প্রেম!) এ কবিতায় কবির বিরহ ভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি হতাশাগ্রস্ত। তিনি প্রতিনিয়ত ভোরের অপেক্ষায় থাকে কিন্তু ভোর আসে না।
কবি ও কথাসাহিত্যিক সাঈদা আজিজ চৌধুরী খুব সহজভাবে তাঁর অভিব্যক্তিগুলো কবিতার মাধ্যমে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে চেষ্টা করেছেন। এগুলো যেন পাঠকের মনের কথা। আমি বিশ্বাস করি পাঠকও বইটির কবিতাগুলো পড়ে আনন্দ পাবে। কবির জন্য শুভকামনা।
কবি ও কথাসাহিত্যিক সাঈদা আজিজ চৌধুরী। তাঁর পিতার নাম শফিকুল হক চৌধুরী। মাতার নাম সৈয়দা ফয়জুন্নেসা খাতুন। স্বামীর নাম এ এম আজিজুর রহমান খান। তাঁর জন্মস্থান সিলেট সদর। তিনি বর্তমানে ঢাকা,বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁর জন্ম তারিখ ৭ই ডিসেম্বর। শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ অর্থনীতিতে স্নাতক (সম্মান) পেশায় তিনি একজন শিক্ষক ছিলেন।তাঁর রচিত মোট একক গ্রন্থসংখ্যা ৯টি। কবি ও কথাসাহিত্যিক সাঈদা আজিজ চৌধুরীর অংশগ্রহণে যৌথ কাব্যগ্রন্থ ১৫টি রয়েছে। তিনি প্রবন্ধ, নিবন্ধও লিখে থাকেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় কবির লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হয়। তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন দেশের সাহিত্য গ্রুপের সদস্য এবং লেখালেখি করেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠন থেকে কবিকে আজীবন সম্মাননা পদক ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।আন্তর্জাতিক সাহিত্যে অবদানের জন্য গ্লোবাল স্টার এওয়ার্ড,দৈনিক ঐশী বাংলা সাহিত্য পুরস্কার(অর্থ সম্মানী),,ঢাকা সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার এবং কবি কাজী নজরুল ইসলাম সাহিত্য পুরস্কার, মাদার তেরেসা স্বর্ণপদক,বেগম রোকেয়া পদক উল্লেখযোগ্য।