মানবজীবনের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত রয়েছে আত্ম-উপলব্ধির মধ্যে। মানুষ যখন নিজের অস্তিত্ব, কর্ম এবং জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন হয়, তখনই সে সত্যিকার অর্থে মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়। আত্ম-অনুসন্ধান মানুষকে তার অন্তর্নিহিত শক্তি, দুর্বলতা এবং দায়িত্ব সম্পর্কে ভাবতে শেখায়। আর এই আত্ম-উপলব্ধিই তাকে সৃষ্টির রহস্য ও স্রষ্টার প্রতি গভীর ভালোবাসার পথে পরিচালিত করে।
প্রকৃত প্রেম কেবল পার্থিব স্বার্থ কিংবা ক্ষণস্থায়ী আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা সৃষ্টি ও স্রষ্টার মধ্যকার আত্মিক সম্পর্কের গভীর অনুভূতি। কিন্তু বর্তমান সমাজে মানুষ ক্রমশ স্বার্থপরতার বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে। নিজের লাভ-লোকসানের হিসাব করতে গিয়ে আমরা প্রায়ই অসহায়, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকারকে উপেক্ষা করি। মানবিক মূল্যবোধ ও সহমর্মিতার পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থই যেন আমাদের কর্মকাণ্ডের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, নিজের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের পরিবর্তে আমরা অধিকাংশ সময় অন্যের সমালোচনা ও দোষ অনুসন্ধানে ব্যস্ত থাকি। ফলে আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির চর্চা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। নৈতিকতার অবক্ষয়ের কারণে মানুষ কখনো কখনো নিজেই শাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দুর্বল ও বঞ্চিতদের শোষণ করে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো আত্মশুদ্ধি। নিজের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে, মানবিক মূল্যবোধকে লালন করে এবং স্রষ্টার প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা ধারণ করেই মানুষ প্রকৃত মুক্তির স্বাদ লাভ করতে পারে। আত্ম-উপলব্ধি ও আত্মশুদ্ধির মধ্য দিয়েই গড়ে উঠতে পারে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ।
'উদ্বাস্তু অরু' ছদ্মনামে লেখালেখি করলেও লেখকের প্রকৃত নাম 'রবিউল হাসান'। ১লা নভেম্বর ২০০৩ সালে তিনি লক্ষ্মীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। লেখক 'উদ্বাস্তু অরু' বর্তমান সময়ে বসে সাহিত্য প্রেমীদের জন্য ভিন্ন ধারার কবিতা, উপন্যাস লিখে থাকেন৷ তার লেখায় প্রতিনিয়ত সৃষ্টি ও স্রষ্টার মেলবন্ধন ফুটে ওঠে। প্রকৃতি ও প্রেমের অসাধারণ উপস্থাপন তার লেখাকে করে তোলে নান্দনিক, বিদ্রোহী, আধ্যাত্মিক এবং একাগ্র।