প্রি-অর্ডারের এই পণ্যটি 27 Jun 2026 তারিখে প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রকাশনী থেকে জানানো হয়েছে। তবে বিশেষ কোন কারণে প্রকাশিত হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হতেও পারে.
মানুষ যখন ঘুমায় তখন নিস্তব্ধ রাতের অন্ধকারে এক রহস্যময় জগৎ খুলে যায় তার সামনে―স্বপ্নের জগৎ। এই জগতের ভাষা বোবা, চিত্ররূপী, কখনো বিস্ময়কর, কখনো আতঙ্কজনক। আর এই জগৎকেই প্রথম ব্যাখ্যার আলোর নিচে এনে দাঁড় করিয়েছিলেন এক সাহসী মননের পথিক―সিগমুন্ড ফ্রয়েড। ‘স্বপ্ন-সমীক্ষণ’ সিগমুন্ড ফ্রয়েডের যুগান্তকারী গবেষণা, যা মনোবিশ্লেষণ তত্ত্বের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। ১৯০০ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থে তিনি স্বপ্নকে কেবল নিছক কল্পনা বা কাকতালীয় ঘটনার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং অবচেতন মনের গভীর ইচ্ছা, ভয় ও অবদমিত কামনার প্রতিফলন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। ফ্রয়েড প্রমাণ করেন, স্বপ্ন বিশ্লেষণের মধ্য দিয়েই আমরা অবচেতন মনের গহিনে প্রবেশ করতে পারি। তিনি আমাদের চেনাতে চেষ্টা করেন―আমরা ঘুমিয়ে থাকলেও আমাদের মনের গভীরতম স্তর কাজ করতে থাকে।
‘স্বপ্ন-সমীক্ষণ’ শুধু একটি বই নয়, এটি এক বৈপ্লবিক মানসিক অভিযাত্রার নাম। এখানে ফ্রয়েড স্বপ্নকে দেখেছেন অবচেতন মনের দরজা বলে―যেখানে জমে থাকে আমাদের চাওয়া-পাওয়া, ভয়, নিষিদ্ধ কামনা, দমনকৃত আবেগ। তাঁর মতে, প্রতিটি স্বপ্নের পেছনে থাকে অর্থ, লুকানো বার্তা, এমনকি আত্ম-উন্মোচনের চাবিকাঠি। এই বইয়ে রয়েছে ব্যক্তিগত স্বপ্ন-উদাহরণ, রোগীর স্বপ্ন, পৌরাণিক ব্যাখ্যা ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মিশ্রণে গঠিত এক আকর্ষণীয় পাঠভ্রমণ। যাঁরা মানবমনের গভীরতা অন্বেষণ করতে চান, আত্মজিজ্ঞাসা ও অন্তর্জগতের রহস্যভেদে আগ্রহী―তাঁদের জন্য ‘স্বপ্ন-সমীক্ষণ’ এক অনিবার্য পাঠ। আজও ‘স্বপ্ন-সমীক্ষণ’ বইটি মনোবিজ্ঞান, সাহিত্য, দর্শন ও সৃষ্টিশীল চিন্তায় এক অবিচ্ছেদ্য রেফারেন্স হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। এটি শুধু একটি বই নয়―মানবমনের গোপন প্রদেশে প্রবেশের এক দুর্লভ মানসিক মানচিত্র।
সিগমুন্ড ফ্রয়েড ১৮৫৬ সালের ৬ মে ফ্রেইবার্গের মােরাভিয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন শেষে ১৮৮১ সালে ডক্টর অব মেডিসিন ডিগ্রি লাভ করেন। এর পর থেকেই ফ্রয়েড মস্তিষ্কের শরীর সংস্থান, স্নায়ু রােগসহ মানসিক ব্যাধি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেন। এবং পরিণতিতে মনােবিশ্লেষণ নামে এক নতুন জ্ঞানকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটান, যার প্রভাব অদ্যাবধি মানববিদ্যার সকল শাখায় অবিসংবাদিত। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে তিনি অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন। ১৯৩৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর লন্ডনে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।