কিছু কিছু মানুষ জন্মান একবারই তবে তাঁদের পৃথিবী আগমনের রেশ রেখে যান কয়েক জন্ম সমান। শ্রদ্ধেয় বেগম খালেদা জিয়া আমার চোখে ঠিক তেমন এক অনন্য উচ্চতার মানুষ। তিনি তাঁর নম্রতা, প্রজ্ঞায় যে পরিমিতিবোধ দেখিয়েছেন তা পৃথিবীর ইতিহাসে এক অনন্য অংশবিশেষ হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ টেলিভিশনে নতুন কুঁড়িতে যখন অংশগ্রহণ করি তখন উনাকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল। এখনো মনে পড়ে, সেই দিন যেন এক জীবন্ত বিশাল আকৃতির একটা পুতুল দেখেছিলাম আমি!
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। সেদিক থেকে তিনি কোটি মানুষের, বিশেষ করে নারীদের অনুপ্রেরণার এক সুউচ্চ ক্যাসেল। তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নিজের সিদ্ধান্তে অটল-অনড় ছিলেন বলে পেয়েছেন ‘আপসহীন নেত্রী’র খেতাব। তিনি দেশকে দেওয়া কথা রেখে অন্তিম অনন্ত যাত্রাকালে হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের। সকল ধর্ম-বর্ণ, দল-বল নির্বিশেষে তিনি ‘আমার’ থেকে হয়ে উঠেছিলেন ‘আমাদের’।
ব্যক্তিগতভাবে আমি উনার রাজনৈতিক জীবন ভীষণভাবে অনুকরণ করি। আমিত্ববোধের অসুখ দেখিনি কখনও উনার জীবনের কোনো অধ্যায়ে। মানুষকে সম্মান দেওয়াটা ছিল যেন উনার প্রথম ধর্ম। যে বিষয়টি প্রজন্মের কনিষ্ঠ একজন হিসেবে আমাকে মুগ্ধ করেছে বহুবার। এখনও সেই মুগ্ধতা কুড়াই উনারই সুযোগ্য পুত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে দেখে। তিনিও তাঁর আচরণ দিয়ে প্রতিদিন হয়ে উঠছেন বাংলাদেশের সকল মানুষের।
জাইমা রহমান আর আমার বয়সের ফারাক অনেক নয়, দুই বা তিন বছরের ছোট-বড়ো আমি এবং জাইমা। জাইমাকে যখন বেগম জিয়ার সাথে দেখতাম আমার খুব ভালো লাগতো, মাঝেমধ্যে নিজেকে সেখানে ভাবতামও।
ছোটবেলায় উনাকে দেখলেও বড়ো হয়ে ছুঁয়ে-ছেনে দেখার সৌভাগ্য হয়নি আমার। গণঅভ্যুত্থানের পর আমার প্রথম ইচ্ছে ছিল শ্রদ্ধেয় বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সময় কাটাবো, উনাকে দেখবো, উনার জীবনের গল্প শুনবো। দেশের উত্তাল আবহাওয়ার জন্য আমার নামের মতো উনাকে ঘিরে স্বপ্নটাও অধরাই রয়ে গেল আমার। তবে জাইমার মাঝে আমি উনাকে অনুভব করি।
অধরা জাহান ১৯৯৩ সালের ১০ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার ওয়াই গ্রামে। জন্মসূত্রেই সুশীল সম্ভ্রান্ত পরিবারের তিনি। দাদা ছিলেন ব্রিটিশ চেয়ারম্যান। বাবা হায়দার জাহান খান ছিলেন সরকারি চাকুরীজীবি। মা আঞ্জুমান হায়দার একজন গৃহিণী। তাঁরা তিন বোন। বাবা মারা যাবার পর জীবনের নানাবিধ চড়াই-উৎরাই'র মধ্য থেকে প্রাণীত হয়ে অধরা জাহান হয়ে উঠেন একজন শিল্প শ্রমিক। নতুন কুঁড়ির মধ্য দিয়ে শিল্প সাহিত্যের অঙ্গনে পদার্পন ২০০৪ সালে। প্রথমেই আবৃত্তি, অভিনয়ে ছিলেন-এরপর দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সফল একজন উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেন তিনি। থিয়েটারেও কাজ করেছেন প্রায় এক দশক সময়। সংগীতের জায়গায় নারী গীতিকবি নেই বললেই চলে-অধরা জাহান বাংলাদেশ গীতিকবি সংঘে তাঁর প্রজন্মের একমাত্র প্রথম নারী গীতিকবিও। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত একজন গীতিকবি তিনি। সাহিতো প্রেম ছিলো একেবারে ছোট্ট বেলা থেকেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে প্রতিনিয়ত জীবনকে খুঁজে পান তিনি। রবী-প্রেম থেকেই মূলত সাহিত্যের সারথি হয়ে উঠেন একটু একটু করে। এছাড়াও জীবনানন্দ দাস, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম, মহাশ্বেতা দেবীকেও প্রতিনিয়তই ধারণ করেন। বেসরকারি বিশ্বাবিদ্যালয় শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটিতে পড়ছেন আইন নিয়ে। অধরা জাহান মনে করেন সমাজ পরিবর্তনের একমাত্র হাতিয়ার হলো কলম এবং আইন। তাই লেখালেখির পাশাপাশি ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের হয়ে কাজ করতে চান একজন আইনজীবী হিসেবে। 'ল শেষ করে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য লন্ডনে যাবারও ইচ্ছে রয়েছে। নোনা শরীর তাঁর তৃতীয় উপন্যাস এবং পঞ্চম বই। অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে- কাব্যগ্রন্থ-নীল পেয়ালার বিষ, এবার তবে থাক, উপন্যাস-কাগজের পুরুষ এবং মুহূর্তরা জানে।