পৃথিবীতে সাধারণত দুই ধরনের ছাত্রছাত্রী দেখা যায়। একদল হলো পাশের বাড়ির রাতুল বা সমাজের চোখে পারফেক্ট সন্তানÑ যারা ভোরবেলা ওঠে, দিনে পঁচিশ ঘণ্টা পড়ে, এবং যাদের রেজাল্ট কার্ড ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো নিখুঁত। আরেকদল হলো ফেল্টুস বা ব্যাকবেঞ্চারÑ যাদের ঘুম ভাঙে দুপুরে, যারা ক্লাসের লাস্ট বেঞ্চে বসে দুনিয়ার যাবতীয় ফিলোসফি কপচায়, এবং পরীক্ষার খাতায় ডাব্বা পেলেও যাদের আত্মবিশ্বাসে বিন্দুমাত্র চিড় ধরে না।
আমাদের সমাজ প্রথম দলকে নিয়ে গর্ব করে আর দ্বিতীয় দলকে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, এই যে পঁচিশ ঘণ্টা পড়ে জিপিএ-৫ পাওয়া গোল্ডেন গার্ল বা গোল্ডেন বয়’রা, তারা কি সত্যিই ভালো আছে? তাদের মোটা ফ্রেমের চশমার আড়ালে যে একটা নিজস¦ আকাশ ছোঁয়ার স¦প্ন লুকিয়ে থাকে, সেটা কি কোনো মার্কশিট পরিমাপ করতে পারে? আর ওই যে পেছনের বেঞ্চের ফেল্টুস ছেলেটা, সে প্রাতিষ্ঠানিক সিলেবাসে জিরো হলেও তার ভেতরের ক্রিয়েটিভিটি বা জীবনকে দেখার দর্শনটা কি পুরোটাই ফেলনা?
“ফেল্টুসের ফিলোসফি“কোনো গবেষণাপত্র বা মোটিভেশনাল বই নয়। এটি আমাদের প্রতিদিনের চেনা মধ্যবিত্ত পরিবারের ড্রয়িংরুমের চিরচেনা স্নায়ুযুদ্ধের গল্প। এটি এমন এক প্রজন্মের গল্প, যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইঁদুর দৌড়ে হাঁপিয়ে উঠেছে। যারা বাবা-মায়ের চাপিয়ে দেওয়া ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার চেয়ে নিজের পছন্দের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক বা কনটেন্ট ক্রিয়েটর হতে বেশি স¦াচ্ছন্দ্যবোধ করে।
অয়ন এবং রিয়াÑ এই উপন্যাসের দুই মেরুর দুই বাসিন্দা। একজন সিস্টেমের সাথে যুদ্ধ করে ফেল্টুস উপাধি পেয়েছে, আরেকজন সিস্টেমের চাপে পিষ্ট হয়ে গোল্ডেন এ-প্লাস রোবট হয়েছে। এই বইয়ের পাতায় পাতায় লুকিয়ে আছে তাদের হাসি, কান্না, দুঃসাহসিক জালিয়াতি, আর অদ্ভুত প্রেমের গল্প।
আপনি যদি কখনো পড়ার টেবিলে বসে জানালা দিয়ে বাইরের আকাশ দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে থাকেন, অথবা পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হওয়ার পর বাবার ভয়ে বাসায় ঢুকতে ভয় পেয়ে থাকেন, কিংবা নিজের প্যাশনকে বুকের ভেতর পাথর চাপা দিয়ে অন্যের স¦প্ন পূরণ করার চেষ্টা করে থাকেনÑ তবে এই উপন্যাসটি আপনার জন্য। চলুন ঘুরে আসি অয়ন আর রিয়ার ছকভাঙা প্রেমের সিলেবাস থেকে।
সামসময়িক বাংলা কবিতায় প্রেম ও বিরহের এক নিবেদিত ক্যানভাস কবি মোঃ অরিদুল্লাহ্। ২০০৩ সালের ১৬ এপ্রিল যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা- মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এবং মাতা- নাছিমা খাতুন। বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে উচ্চমাধ্যমিক কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করলেও, সাহিত্যের প্রতি প্রবল আকর্ষণে বর্তমানে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করছেন।
লেখালেখির হাতেখড়ি খুব অল্প বয়সে, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময়। ২০১৬ সালে ‘কবিতার ডায়েরি’ যৌথ কাব্যগ্রন্থে ‘দুর্যোগ’ কবিতাটি প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যাঙ্গনে তাঁর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। তাঁর প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ ‘স¦প্ন তোকে ছুঁই’ প্রকাশিত হয় ২০২০ সালে। এছাড়া ‘কবি’, ‘দুখের আঁধার রাত্রি’, ‘স¦প্নের ক্যানভাস’সহ বেশ কিছু যৌথগ্রন্থে তাঁর লেখনী পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।
বর্তমান গ্রন্থ ‘তোমায় পাওয়ার লোভ’-এ কবি তুলে ধরেছেন প্রেম ও বিচ্ছেদের এক দহনলিপি। তাঁর কবিতার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সাবলীল শব্দচয়ন এবং আবেগের গভীরতা। তিনি কেবল ছন্দের কারিগর নন, বরং মানুষের মনের অব্যক্ত হাহাকার ও না-পাওয়ার বেদনাকে শব্দে রূপ দিতে পারদর্শী।