'রহস্যচক্র' একটি রোমাঞ্চকর রহস্য-অভিযান সংকলন, যেখানে তিনটি আলাদা গল্প তিনটি ভিন্ন মহাদেশের প্রেক্ষাপটে বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিটি গল্পে কেন্দ্রীয় চরিত্র তরুণ গবেষক ও অভিযাত্রী অভিজিত রায়, যে প্রাচীন প্রতীক, ইতিহাস ও কিংবদন্তির সূত্র ধরে পৃথিবীর নানা অজানা স্থানের রহস্য অনুসন্ধান করেন।
প্রথম অভিযান 'শূন্য রেখার ওপারে' পাঠককে নিয়ে যায় লাদাখের বরফ ঢাকা হিমালয়ের গভীরে। অভিজিত, তার বন্ধু অন্বেষা এবং শেরপা পেমাকে নিয়ে এক নিষিদ্ধ উপত্যকার পথে যাত্রা শুরু করে, যেখানে লুকিয়ে আছে কিংবদন্তির শম্ভালার দ্বার।
কঠিন পাহাড়ি পথ, রহস্যময় প্রতীক ও অদ্ভুত নীল আলোয় ভরা এই অভিযানে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয় যে শম্ভালা হয়ত কোনও ভৌগোলিক স্থান নয়, বরং মানুষের অন্তরের এক গভীর পরীক্ষা।
দ্বিতীয় অভিযান 'সোনার মায়াপদ্ম' শুরু হয় কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের এক রহস্যময় আবিষ্কার দিয়ে। একটি প্রাচীন প্রতীকের সূত্র ধরে অভিজিত পৌঁছে যায় ব্রাজিলের আমাজন অরণ্যে। সেখানে অভিযাত্রী আয়েশা, গাইড রেনো এবং ভাষাবিদ সায়লার সঙ্গে সে খুঁজতে থাকে ইনকা সভ্যতার কিংবদন্তি 'সোনার মায়াপদ্ম'-এর পথ। কিন্তু এই অনুসন্ধান যত গভীরে যায়, ততই তারা বুঝতে পারে যে এটি শুধু হারানো ধন বা কিংবদন্তির সন্ধান নয়, বরং অরণ্যের অন্ধকার ও মানুষের সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হওয়ার এক কঠিন যাত্রা।
তৃতীয় অভিযান 'ফারাওয়ের অভিশাপ' পাঠককে নিয়ে যাবে মিশরের মরুভূমিতে, রাজাদের উপত্যকার রহস্যময় সমাধিক্ষেত্রে।
অভিজিত, প্রত্নতত্ত্ববিদ ডঃ ইউসুফ ফারুক এবং স্থানীয় গাইড লায়লা খুঁজতে থাকে দুই হাজার বছরের পুরোনো অভিশপ্ত ফারাও নেমেসিসের হারানো সমাধি।
রক্তে আঁকা প্যাপিরাস মানচিত্র, প্রাচীন মৃত্যুফাঁদ, জীবন্ত প্রহরী মূর্তি এবং সাপাকৃতি অতিপ্রাকৃত রক্ষক আপেপ, সবকিছুর মধ্যে দিয়ে এগোতে গিয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হয় লোভ, ভয় এবং আত্মত্যাগের চরম পরীক্ষার।
তিনটি অভিযানের গল্প, তিনটি ভৌগোলিক বিস্তার এবং তিনটি ভিন্ন রহস্য কিন্তু তাদের কেন্দ্রবিন্দু একটাই, অজানার প্রতি মানুষের অদম্য আকর্ষণ। ইতিহাস, কিংবদন্তি, আধ্যাত্মিকতা ও রুদ্ধশ্বাস অ্যাডভেঞ্চারের মিশেলে 'রহস্যচক্র' পাঠককে নিয়ে যাবে এক বিস্ময়কর অভিযাত্রায়, যেখানে প্রতিটি রহস্যের শেষেই প্রশ্ন থেকে যাবে,
সব রহস্য কি সত্যিই উন্মোচিত হয়?
নাকি কিছু রহস্য মানুষের পরীক্ষার জন্যই পৃথিবীতে রেখে দেওয়া হয়েছে?