গল্পটা আদিবার। আধুনিক শিক্ষায় ও চাকচিক্যে বেড়ে ওঠা এমন এক তরুণী, যার বাইরের জীবনটা নিখুঁত হলেও ভেতরে ছিল এক অদ্ভুত শূন্যতা আর অন্তর্দ্বন্দ্ব। জীবনের আসল উদ্দেশ্য কী? চারপাশের এত বিভ্রান্তি আর ইসলাম সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর ভিড়ে সত্যটা আসলে কোথায়? মনের গহিনের এমন অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই শুরু হয় আদিবার এক নতুন যাত্রা।
'আলোর অভিমুখে' উপন্যাসটি কেবল একটি চরিত্র নয়, বরং আমাদের অনেকেরই মনের না-বলা কথাগুলোর প্রতিচ্ছবি। নিজের ভেতরকার অন্ধকার আর সংশয় পেরিয়ে আদিবা যখন ধীরে ধীরে কুরআন ও সুন্নাহর স্নিগ্ধ আলোয় পা রাখে, তখন সে এক নতুন সত্যের মুখোমুখি হয়। সে পরম শান্তিতে উপলব্ধি করে—ইসলাম কোনো সংকীর্ণ বা কঠোর শেকল নয়; বরং এটি হলো প্রশান্তি, ভারসাম্য, মানবিকতা আর আত্মিক মুক্তির এক সুশীতল ছায়া।
অবশ্য আলোর পথে ফেরার এই পথচলা আদিবার জন্য খুব একটা মসৃণ ছিল না। চারপাশের মানুষের ভ্রুকুটি, সামাজিক নানা বাধা আর মতপার্থক্য তাকে বারবার থমকে দিতে চেয়েছে। কিন্তু বুকে আল্লাহর ওপর অবিচল বিশ্বাস নিয়ে সে ঠিকই এগিয়ে যায়। এই দীর্ঘ যাত্রায় একসময় জীবনসঙ্গী হিসেবে সে পাশে পায় আদনানকে। এরপর দুজনের হাত ধরে গড়ে ওঠে ভালোবাসা, বোঝাপড়া, পারিবারিক বন্ধন আর আখিরাতমুখী এক সুন্দর জীবনের গল্প—যা পাঠকের মনেও এক নতুন আশা জাগায়।
বইটি পড়তে গিয়ে মনে হবে যেন কেউ খুব আপন সুরে আপনার সাথেই কথা বলছে। গল্পের বাঁকে বাঁকেই উঠে এসেছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা জিজ্ঞাসা, আকিদা, আত্মশুদ্ধি আর জীবনের প্রকৃত লক্ষ্যের কথা। গভীর বিষয়গুলোও এখানে এমন সহজ ভাষায় বলা হয়েছে, যা সরাসরি চিন্তার দরজায় কড়া নাড়ে।
সব মিলিয়ে 'আলোর অভিমুখে' কেবল মলাটবদ্ধ একটি উপন্যাস নয়; এটি যেন এক টুকরো আয়না, যেখানে নিজেকে নতুন করে চেনা যায়। যারা মনের গহিনে প্রশান্তি খুঁজছেন, হেদায়েতের আলোয় ইসলামকে নতুন করে বুঝতে ও ভালোবাসতে চাইছেন—বইটি তাদের একনিষ্ঠ এক বন্ধু হয়ে উঠবে।