কবি পরিচিতি
আলী প্রয়াস
কবি, সম্পাদক, সংগঠক ও প্রকাশক
জন্ম:১৯৭৯খ্রি.
উত্তর লম্বরী, টেকনাফ, কক্সবাজার।
পিতা:ডা. আলহাজ্ব ওবাইদুর রহমান
মাতা:গোলবাহার বেগম
পড়াশোনা: বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনায় এমএ
ছোটকাগজ 'তৃতীয় চোখ' সম্পাদনা করছেন দুই দশক ধরে। কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধসহ মৌলিক ও সম্পাদিত গ্রন্থ সংখ্যা ১৮টির অধিক। তাঁর অনেক প্রবন্ধ-নিবন্ধ বিভিন্ন পত্রিকা ও জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
ইমেইল: [email protected]
ফোন: ০১৮১৯-৪২২৬১৮
বই পরিচিতি
আলী প্রয়াস-এর ‘এই উপাস্য, এই উপাসনালয়’ একটি ব্যতিক্রমী ভাবনার পরাবাস্তব ও মরমী কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রথাগত ধর্মীয় আচারের বাইরে গিয়ে মানুষের অস্তিত্বের গভীর শূন্যতা, একাকীত্ব এবং আধ্যাত্মিক সংকটের এক নিবিড় মনস্তাত্ত্বিক দলিল। কবির সাবলীল লেখনীতে উপাসনালয় কেবল ইট-পাথরের কোনো কাঠামো নয়; তা হয়ে উঠেছে মানুষের অবদমিত আকাঙ্ক্ষা, নীরব কান্না ও মহাজাগতিক একাকীত্বের এক জীবন্ত রূপক । গ্রন্থের মূল দার্শনিক দিকগুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
একাকীত্বই আসল ঈশ্বর: কবির মতে, উচ্চকিত মন্ত্রোচ্চারণ বা কৃত্রিম আলোয় ঈশ্বরকে চেনা যায় না। ‘নৈঃশব্দ্যের চিঠি’ কবিতায় তিনি এক অমোঘ সত্য উচ্চারণ করেন—“কেউ জানে না, প্রার্থনা নয়— / একাকিত্বই আসল ঈশ্বর” । এখানে স্তব্ধতাই পরম জপ, আর অন্ধকারই শুদ্ধতার আরেকটি রূপ ।
ক্ষত ও মানবিক হাহাকার: গ্রন্থে মূর্ত হয়েছে জীবনের নানা অপ্রকাশিত ক্ষত ও শোক। ‘প্রাচীরের কান্না’, ‘ভাঙা ঘণ্টার গান’ কিংবা ‘এক ফোঁটা রক্ত’ কবিতাগুলোতে কবি দেখিয়েছেন কীভাবে চারপাশের নির্জীব বস্তুগুলো মানুষের গোপন দীর্ঘশ্বাস আর কান্নার ভার বহন করে চলেছে । ভক্তির চেয়ে এখানে মানুষের ‘ক্ষত’ অনেক বড় এবং সেই ক্ষতের মাঝেই ঈশ্বরের উপস্থিতি মূর্ত হয় ।
প্রতীক্ষা ও ধ্বংসের পুণ্য: ‘ প্রতীক্ষার স্তব’ কবিতায় পুণ্য বা বিশ্বাসের সংজ্ঞা বদলে যায়। কারো না-আসার যে অনন্ত অপেক্ষা, কবি তাকেই বিশ্বাসের পুণ্য বলেছেন । আবার ‘ধ্বংসস্তূপের প্রার্থনা’য় তিনি দেখিয়েছেন যে, অনেক সময় সুনিপুণ সৃষ্টির চেয়ে ধ্বংসের মাঝেই ঈশ্বরকে অনেক বেশি কাছাকাছি ও আশ্বাসদায়ক মনে হয়। পরিশেষে বলা যায়, ‘এই উপাস্য, এই উপাসনালয়’ পাঠককে বাহ্যিক কোলাহল থেকে টেনে এনে নিজের অবচেতনের আয়নার মুখোমুখি দাঁড় করায়। সহজ, প্রতীকী এবং মরমী ভাষার মেলবন্ধনে প্রতিটি পঙ্ক্তি হয়ে উঠেছে সংবেদনশীল। কবিতাপ্রেমীদের হৃদয়ে এই গ্রন্থটি এক দীর্ঘস্থায়ী, প্রশান্ত অথচ গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করবে।