পড়াশোনা: বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনায় এমএ
ছোটকাগজ 'তৃতীয় চোখ' সম্পাদনা করছেন দুই দশক ধরে। কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধসহ মৌলিক ও সম্পাদিত গ্রন্থ সংখ্যা ১৮টির অধিক। তাঁর অনেক প্রবন্ধ-নিবন্ধ বিভিন্ন পত্রিকা ও জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
আলী প্রয়াস-এর ‘আমার অন্ধ আশ্রয়’ কাব্যগ্রন্থটি মূলত মনস্তাত্ত্বিক আত্মসন্ধান, পারিবারিক বন্ধন এবং প্রকৃতির অমোঘ সত্যের এক গভীর কাব্যিক অভিলেখন। এখানে ‘অন্ধ আশ্রয়’ শব্দবন্ধটি প্রথাগত কোনো অন্ধতাকে নির্দেশ করে না; বরং তা হয়ে উঠেছে মানুষের অবচেতনের এক পরম মায়াময় জগৎ—যেখানে জীবনের সব ক্ষত, ক্লান্তি আর দীর্ঘশ্বাস এসে এক প্রশান্ত আশ্রয় খুঁজে পায়। গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু ও ভাবধারাকে নিচে সংক্ষেপে ভাগ করা হলো:
পারিবারিক বন্ধন ও শোকের অনুরাদ: কবি তাঁর লেখনীতে পিতা ও মাতার প্রতি চিরন্তন শ্রদ্ধা ও মরমী অনুভূতির এক অনন্য ক্যানভাস এঁকেছেন। ‘মা’ ও ‘মৃতের চিঠি’ কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে মাতৃত্বের অপরিশোধ্য ঋণ এবং মাকে ঘিরে গভীর এক আত্মগ্লানি ও সুদূর বিষাদ। আবার ‘বাবা’ ও ‘আমার বাবা’ কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে এক সৎ ও আদর্শ পিতার স্মৃতি—যা কবির যান্ত্রিক নাগরিক জীবনে এক পরম সান্ত্বনা ও শাশ্বত মানদণ্ড হিসেবে উপস্থিত থাকে। দক্ষিণের জনপদ ও সমুদ্রের ডাক: এই কাব্যের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হলো কবির নিজের বেড়ে ওঠা জন্মজনপদ। ‘ঝাউপাতার কান্না’, ‘টানাজাল’ কিংবা ‘নিশ্ছল জলে জ্যৈষ্ঠতাপ’কবিতায় বাঁকখালি, নাফ বা কর্ণফুলির চিরায়ত রূপ মূর্ত হয়েছে। ধীবরদের জীবনসংগ্রাম, সমুদ্রের নোনাজল এবং রেজু নদীর অবক্ষয় পাঠককে শেকড়ের টানে আচ্ছন্ন করে ।
অস্তিত্বের আদিম হাহাকার ও সময় চেতনা: ‘অনার্য পুরুষ’, ‘সময়ের সংশয়’ এবং ‘আয়নায় খুঁজি আপন মুখ’ কবিতাগুলোতে কবি মানুষের খণ্ডিত অবয়ব ও মহাজাগতিক একাকীত্বকে তুলে ধরেছেন। জীবনের অসম্পূর্ণতা ও মৃত্যুর ওপার থেকে আসা ডাককে কবি অত্যন্ত নিবিড় প্রতীকী ও পরাবাস্তব ভাষায় ব্যক্ত করেছেন ।
‘আমার অন্ধ আশ্রয়’ মানুষের চিরন্তন প্রেম, আত্মবিলাপ, এবং শেকড়ের খোঁজে এক অনন্ত যাত্রা। সহজ অথচ মরমী ভাষার ব্যবহারে এই গ্রন্থটি প্রতিটি সংবেদনশীল পাঠকের অন্তরে এক প্রশান্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী অনুরণন তৈরি করবে।
আলী প্রয়াস জন্ম : ২৬ মার্চ। বাবা : ডাঃ ওবাইদুর রহমান মা : গোল বাহার বেগম ঠিকানা: উত্তর লম্বরী, টেকনাফ কক্সবাজার, বাংলাদেশ। শিক্ষা : বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ. গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞানে এম.এ.