আগামী প্রজন্মের জন্য কি রেখে যাচ্ছি?
.............................................................................
সাহিত্য-সংস্কৃতি, প্রগতি আর উন্নতি। সবকিছুতেই নাকি আমরা বর্তমানে অতীতের যে কোন সময়ের থেকে অনেক বেশী অগ্রগতি লাভ করেছি। ভদ্র আর সুশীল হয়েছি। ‘সৃজনশীল’ শিশু সাহিত্য আর ‘সৃজনশীল’ সংস্কৃতির উন্নয়নের জোয়ারে দেশ নাকি ভেসে চলেছে!
কিন্তু কই! চিন্তা-চেতনার অবক্ষয় থেকে, নোংরামী আর বেহায়াপনা থেকে, সুষ্ঠু সমাজ বিনির্মাণের আদর্শ উপকরণ সমৃদ্ধ তেমন কোন আয়োজন তো চোখে পড়ে না। আদর্শগত দিক থেকেও সম্ভ্রান্ত হওয়ার তেমন কোন লক্ষণও তো দেখা যায় না। বরং চারিদিকে কেবল বঞ্চনা আর অনটনের হাহাকারই দৃশ্যমান।
সভ্যতা আর আভিজাত্যের তকমাধারী সমাজের একশ্রেণীর গুটিকতেক ব্যক্তিত্বের কাছে পুরো জাতি আজ যিম্মি, অসহায়। যে দেশের জনসাধারণ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সীমাহীন পরিশ্রম করেও দু’বেলা দু’মুঠো অন্যের সংস্থান করতে সক্ষম হয় না, সেখানে কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল গাড়ি বিক্রির হাট বসে। সন্ধ্যার পর থেকে ভোর রাত পর্যন্ত বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলগুলোতেও সরগরম আড্ডা চলে। লক্ষ টাকা মূল্যের শাড়ী-লেহেঙ্গার খরিদদারও সহজেই জোটে। কেবল মেলে না গরীবের ঘরে দু’বেলা দু’মুঠো চাল-ডাল আর প্রাণধারণের মতো সামান্য অন্নের সংস্থান।
সমাজের একদিকে যেমন অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান নিয়ে দরিদ্র শ্রেণীর মানুষের সাথে চরম বৈষম্য, অপরদিকে তেমনি সাহিত্য সংস্কৃতির নামে, সৃজনশীলতার শ্লোগানে; মিথ্যা, বানোয়াট আর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ভাড়ামোর উৎসবও খুবই জমজমাট। নোংরামী আর বেহায়াপনার জোয়ারে ‘সাহিত্য’ বেচারা অসহায়ভাবে কেঁদে মরে। আদর্শিক মনন আর চিন্তাশীল তনয় সৃষ্টির কোন উপাদান না থাকায় সাহিত্যের আসরগুলো আজ বাহ্যিক খোলসে চাকচিক্যময় হলেও, সত্য-ন্যায়ের শিক্ষার ক্ষেত্রে চরম দেউলিয়াপনার শিকার।
জাতির নামধারী কর্ণধারদের যখন এই অবস্থা ও বাস্তবতা, তখন আমাদের আগামী প্রজন্ম আদর্শিক ভিত্তি মজবুত করতে কোথায় যাবে?
কার কাছ থেকে রুচি আর মানসিকতার উন্মেষ ঘটাবে?
হিমু রোগাক্রান্ত বিকৃত মস্তিস্কের উদ্ভট প্রলাপ ছেড়ে নবীন প্রজন্মকে কারা সোনালী সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাবে?
দুঃখের সাথে বলতে হয়, এই সকল প্রশ্নের জবাবে নীরবতা অবলম্বন ছাড়া আর কিছুই যেনো করার নেই আমাদের।
জাতির এই ক্রান্তিকালে আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত সত্য ও সুন্দর ইসলামী সাহিত্যের প্রচার ও প্রসারে এগিয়ে আসা এবং নিজস্ব অবস্থান থেকেই সাধ্যানুকূল সকল প্রকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।
এই চিন্তা থেকেই, জাতির আগামী প্রজন্মের কাছে সত্য-সুন্দর কিছু ক্ষুদ্র অবলম্বন তুলে দেয়ার নিমিত্তেই খান প্রকাশনীর যাত্রা শুরু হয়েছিল।
আলহামদুলিল্লাহ! উক্ত ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মহাপবিত্র গ্রন্থ আল কুরআনে বর্ণিত সত্য ও উপদেশমূলক ঘটনাসমূহ এবং আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সুযোগ্য সাহাবায়ে কিরামের জীবনের সত্য ঘটনাগুলোকে গ্রন্থিত করে জাতির সামনে তুলে ধরবো ইনশাআল্লাহ। তারই একটি অংশ হিসেবে এই বই আজ আপনাদের হাতে।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, নিশ্চয়ই পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে একমাত্র ইসলামের দিকে ফিরে আসার মাধ্যমেই আমাদের ব্যক্তিগত এবং জাতীয় সকল সমস্যার সমাধান হতে পারে। কাল্পনিক ‘ভূতের গল্পসমূহ’ আর ‘গোপাল ভাড়’ স্বর্বস্ব উদ্ভট ও অপ্রয়োজনীয় জঞ্জালের ধ্বংসস্তুপের উপর সুস্থ সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ একদিন ঘটবেই ঘটবে ইনশাআল্লাহ।
সেই সোনালী সুদিনের প্রত্যাশায় আমাদের পথচলা যেন আরো গতিময় ও মসৃন হয় সেজন্য মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করি। সাথে সাথে বিজ্ঞপাঠক সমাজের আন্তরিক দোয়া ও সহযোগিতা প্রাপ্তির প্রত্যাশায় আজ এখানেই পরিসমাপ্তি করছি। আল্লাহ আমাদের সকলকে তার দীনের জন্য কবূল করুন। আমীন।
মুহাম্মাদ ইসহাক খান
স্বত্ত্বাধিকারীঃ খান প্রকাশনী
১৭/০৮/২০১১