“একটা কথা কি জানো, আমার প্রিয়তমা যখন কাউকে ঘৃণা করে তখন তার চারপাশে জমা হয় অন্ধকার। আর সেই অন্ধকারের গন্ধটা আমি সহ্য করতে পারি না। আমার প্রিয়তমার পবিত্র মনে যে একটুখানি দাগ দেবে, সে আসলে এই মহাবিশ্বের একটা আবর্জনা। আর আবর্জনা জমিয়ে রাখতে নেই, এলিজা। ওগুলোকে পিষে, থেঁতলে, একদম মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়। এতে পৃথিবীটা আবার আমার প্রিয়তমার মতো সুন্দর হয়ে ওঠে। এই যেমন এখন, তোমরা যে এখনো নিঃশ্বাস নিচ্ছ এটা আমার প্রিয়তমার প্রতি চরম অপমান! আমি এই নোংরা শরীর দুটোকে এবার একটু পরিষ্কার করব। তোমাদের রক্তেই রঙিন হবে আমার প্রিয়তমার মন। কী চমৎকার, তাই না?” কথাগুলো বলেই হাতুড়িটা হাতে তুলে নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখে নিল ব্যক্তিটি। অতঃপর হাসির শব্দ বৃদ্ধি পেল। উচ্চশব্দে হিংস্র আওয়াজ তুলে হাসছে লোকটা। হুট করেই কোনো প্রকার সতর্কতা ছাড়াই হাতুড়িটা তুলে সে আঘাত করে বসল লুকাসের মাথায়। মুহূর্তের মাঝেই মাথার একপাশ থেঁতলে গেল। গলগল করে বেরিয়ে এলো রক্তস্রোত। এলিজা চিৎকার করে উঠল নিজের চোখের সামনে নিজের স্বামীর এহেন অবস্থা দেখে। লোকটা ইচ্ছেমতো আঘাত করছে লুকাসকে। হাঁটু গেড়ে বসে ছুরির আঘাতও করল গোটা শরীরে। জখম করে ছাড়ল শরীরের প্রতিটি অংশ। বিড়বিড় করে আওড়াল, "আমি তা সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করি, যা আমার প্রিয়তমা ঘৃণা করে।"
অতঃপর পরবর্তী আঘাতটা পড়ে এলিজার চোখে। হিংস্রতম এক মৃত্যু উপহার দেয় লোকটি। একের পর এক আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত করে তোলে দুটো শরীর। আর বারবার আওড়াল একটি মাত্র বাক্য, "মাই হার্ট, আই লাভ ইউ সো মাচ।"
শেষবারের মতো হাতুড়ি তুলে মুখ বরাবর আঘাত করল সে। স্নিগ্ধ হাসিতে অধর বাঁকিয়ে বিড়বিড় করে আওড়াল, "স্বর্গযাত্রা সুখের হোক।”
ইশরাত জাহান জেরিন। ডাকনাম জেরিন। অক্টোবরের বিশ তারিখ ঢাকায় জন্ম তার। পেশায় শিক্ষার্থী হলেও প্রধান শখ, নেশা, আরাধনা লেখালেখি। বর্তমানে তিনি রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যায়নরত। দুই হাজার তেইশ সালের শেষের দিকে এসএসসির আগমুহূর্তে লেখালেখির প্রতি গভীর অনুরাগ থেকেই লেখিকা হিসেবে নিজের আত্মপ্রকাশ ঘটান। পাঠকের আশানুরূপ সাড়া, আর অজস্র ভালোবাসাকে নিজের পথ চলার অনুপ্রেরণা বানিয়ে লেখিকা পাড়ি দিতে চান আরো অনেকটা পথ, পাঠকমহলকে উপহার দিতে চান মস্তিষ্কে কিলবিল করতে থাকা ভিন্নধর্মী সব গল্প, উপন্যাস। জানতে চান সাহিত্যকে, বুঝতে চান সাহিত্যের প্রতিটি গণ্ডিকে।