সত্যের সন্ধান গ্রন্থে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের পথপ্রদর্শনসহ ইসলামের মৌলিক আকিদা ফিক্হ ও কল্বি ইল্মের সমন্বয়ে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ‘সত্য’ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী যথাযথভাবে শরিয়ত প্রতিপালনের উদ্দেশ্যে নফ্সের তাযকিয়ার জন্য কলবি ইলম অর্জন করা অপরিহার্য। কিন্তু কুরআন-হাদীসের আলোকে এ সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না থাকায় কেউ কেউ এ ইল্ম চর্চার নামে বিভিন্ন ধরনের শিরক, বিদআত ও কুসংস্কারে জড়িয়ে পড়েন, যা ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে ইসলামে এ ইলমের কোনো অস্তিত্ব নেই এমন মন্তব্য করেও অনেকে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করেন। আবার কেউ কেউ এ ইলমের অস্তিত্ব স্বীকার করলেও তা অর্জনের জন্য কোনো মুকাম্মিল মুর্শিদের কাছে বাইয়াত হয়ে তাঁর সহবত অবলম্বন করার যে বিশেষ গুরুত্ব আছে, সে কথা মনে করেন না বরং তাদের ধারণা, তাযকিয়ায়ে নফ্স-এর জন্য বইপুস্তক থেকে নিয়মকানুন জেনে আমল করলেই তা যথেষ্ট হবে। কলবি ইলমসংক্রান্ত এসব বিভ্রান্তি নিরসনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে সত্যের সন্ধান গ্রন্থ রচিত হয়েছে। সত্যের সন্ধান গ্রন্থটি যুগযুগান্তরের আল্লাহবিমুখ চেতনা দূরীকরণের উদ্দেশ্যে বিশুদ্ধ তাওহীদ প্রতিষ্ঠায় এবং তাসাউফের নামে প্রচলিত শিরক-বিদআতের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ হিসেবে একটি বরকতপূর্ণ গ্রন্থ। বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ‘মাসিক মদীনা’ পত্রিকার সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান সাহেব লিখেছেন, “ আমি মোহতারম জনাব মোহাম্মদ নূরুল বাশার সাহেবের লেখা সত্যের সন্ধান পুস্তকখানার পাণ্ডলিপি বিশেষ মনোযোগের সাথে আগাগোড়া পাঠ করার সুযোগ পেয়ে ধন্য হয়েছি। লেখক এ বিষয়ের ওপর একটা চমৎকার গ্রন্থ রচনা করেছেন- শুধু এতটুকু বললেই কথা শেষ হয় না। বর্তমান যুগমানসের সামনে তাসাউফকে সহজ সাবলীলভাবে এবং যুক্তি ও দলিলের সম্পদে সমৃদ্ধ করে পরিবেশন করার পূর্ণ কৃতিত্ব লেখক প্রদর্শন করতে সমর্থ হয়েছেন। আমার ন্যায় এক নাদানের পক্ষে এ মহৎ গ্রন্থখানি সম্পর্কে এর বেশি বলা ধৃষ্ঠতাপূর্ণ অনধিকার চর্চা বলে মনে করি।”