বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতে শিশুদের উপযোগী শিক্ষামূলক ও তথ্যভিত্তিক বইয়ের জন্য ‘আসিফ রায়হান’ পরিচিত। তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় এবং আকর্ষণীয় উপস্থাপনায় ছোটদের জন্য জটিল বিষয়গুলো ফুটিয়ে তুলতে পছন্দ করেন।
তার সাহিত্যকর্ম, লেখার ধরন এবং কাজের মূল ক্ষেত্রগুলোর বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:
১. প্রধান কাজের ক্ষেত্র ও অবদান
তিনি মূলত শিশুদের মনস্তত্ত্ব এবং প্রাথমিক শিক্ষার চাহিদাকে মাথায় রেখে বই তৈরি করেন। তার কাজগুলোকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
সাধারণ জ্ঞান ও কৌতূহল মেটানো: শিশুদের চারপাশের বিশ্ব, বিজ্ঞান, ইতিহাস এবং সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে তিনি কাজ করেছেন। তার জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো 'শিশুদের জানার আনন্দ' (১ম ও ২য় খণ্ড)। বইটিতে ছবি ও সহজ প্রশ্নের মাধ্যমে শিশুদের মনে জানার আগ্রহ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রযুক্তি ও কম্পিউটার শিক্ষা: আধুনিক যুগের শিশুদের জন্য প্রযুক্তির প্রাথমিক জ্ঞান দেওয়া জরুরি। এই চিন্তা থেকে তিনি লিখেছেন 'এসো কম্পিউটার শিখি' (১ম ও ২য় ভাগ)। প্রাথমিক ও জুনিয়র স্তরের শিক্ষার্থীরা যাতে খুব সহজেই কম্পিউটারের মৌলিক বিষয়গুলো বুঝতে পারে, তা এই বইয়ে সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে।
সৃজনশীলতা ও হাতেখড়ি: ছোট শিশুদের অক্ষর চেনা, আঁকিবুঁকি করা এবং মানসিক বিকাশের জন্য তিনি 'আঁকি বুঁকি'-র মতো বই তৈরি করেছেন, যা প্রি-স্কুল বা নার্সারি পর্যায়ের শিশুদের সৃজনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
২. লেখার বৈশিষ্ট্য
সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষা: কঠিন বা জটিল শব্দ পরিহার করে তিনি এমন ভাষা ব্যবহার করেন, যা শিশুরা নিজে নিজে পড়তে পারে অথবা অভিভাবকরা পড়ে শোনালে সহজেই শিশুরা বুঝতে পারে।
চিত্রভিত্তিক উপস্থাপনা: তার প্রায় প্রতিটি বই-ই আকর্ষণীয় ইলাস্ট্রেশন ও রঙিন ছবিতে সাজানো, যা শিশুদের বই পড়ার প্রতি মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
শিক্ষামূলক উদ্দেশ্য: শুধু আনন্দের জন্য গল্প লেখা নয়, বরং খেলার ছলে বা আনন্দের মাধ্যমে কীভাবে শিশুরা নতুন কিছু শিখতে পারে (Edutainment), সেটাই তার লেখার মূল লক্ষ্য।
৩. পাঠক শ্রেণী
তার বইগুলো মূলত প্লে/নার্সারি থেকে শুরু করে প্রাথমিক (Class 1 to 5) এবং জুনিয়র স্তরের শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে সাজানো। স্কুলগুলোতে সাধারণ পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সহায়ক বই বা সাধারণ জ্ঞানের চর্চার জন্য তার বইগুলো বেশ সমাদৃত।