মহানবী (সা.) - এর উহুদ , আর- রাজী ও বি’রে মা’উনাহ্
বইটিতে ৪টি বিষয় তথা এক. উহুদ, দুই. হামরাউর আসাদ, তিন. আর-রাজী, চার. বিরে মাউনা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। উহুদ-এর ভৌগলিক পরিচয়, নামকরণ, উহুদ যুদ্ধের তারিখ, কারণ, এক নজরে যুদ্ধের মূল ঘটনা, উহুদ যুদ্ধের ঘটনর ধারাবাহিক বিবরণ, উহুদ যুদ্ধের মহাপরিক্ষার তাৎপর্য, সাময়িক বিপর্যয়ের কারণ ও রহস্য, উহুদ যুদ্দে রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর নিরাপত্থা রক্ষীগণ, উহুদ যুদ্ধে মুসলিম মহিলাদের ভূমিকা, উহুদের শহীদের দাফন-কাফন, মুসলিম বাহিনীর মদীনায় প্রত্যাবর্তন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মদীনায় অবতরণ, মুসলিম ও মুশরিকদের হতাহতের বিবরণ, উহুদের শহীদদের নাম, আল্লাহ্ তা'আলার নিকট সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর মাহাত্ম ও মর্যাদা, সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর মতবিরোধের সমালোচনা থেকে বিরত থাকা, কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আদালাতুস সাহাবা এবং সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদা ইত্যাদি বিবষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। হামরাউল আসাদ-এর ভৌগলিক অবস্থান ও ঘটনা এবং ফলাফল নিয়ে সুন্দর আলোচনা করা হয়েছে। আর-রাজী-এর ভৌগলিক পরিচয়, নামকরণ, যুদ্ধের তারিখ, কারণ, উভয় দলের সংখ্যা ও হাতিয়ার, মূল ঘটনা, শহীদদের বিবরণ এবং ফলাফল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
মহানবী (সা.) -এর নবুওয়াতী জীবন
আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে উম্মতে মুহাম্মাদী হিসেবে সৃষ্টি করে পূর্ববর্তী সকল উম্মাহর ওপর শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন করেছেন। মহানবী সা. এর জীবনে আমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। বিশ্বায়নের (Globalization)-4 যুগে যতই দিন যাচ্ছে ততই সবকিছুর বিস্তৃতি ও সহজ হচ্ছে। সাথে সাথে মানুষের মাঝে আল-কুরআন, রাসূল সা. এর সুন্নাহ ও সীরাত জানার আগ্রহও বাড়ছে। বিভিন্ন সীরাত গ্রন্থগুলো থেকে রাসূল সা. এর গোটা জীবনের আংশিক ও খণ্ডিত তথ্য জানা যায়। একটি সীরাত কোষের অংশ হিসেবে আমি অত্র গ্রন্থটিতে মহানবী সা. এর নবুওয়াতী জীবনের সুনির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। অবশিষ্ট গ্রন্থগুলোতে মহানবী সা. এর জীবনের প্রতিটি দিকভাগ নিয়ে বিজ্ঞ লেখকগণের বিষয়ভিত্তিক বিস্তারিত লেখা স্থান পেয়েছে। এ সীরাত কোষ পাঠের মাধ্যমে মহানবী সা. এর গোটা জীবনের সুষ্পষ্ট ইতিহাস জানা যাবে। 'মহানবী সা. এর নবুওয়াতী জীবন' শীর্ষক গ্রন্থটি অধ্যয়নের ফলে পাঠক মহল যা জানতে পারবেন তা নিম্নরূপ।
গ্রন্থটি ভূমিকা ও উপসংহার ব্যতীত নিম্নোক্ত তিনটি অধ্যায় ও অনেকগুলো পরিচ্ছেদে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে রাসূল সা.-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বাভাস সম্পর্কে দ্বিতীয় অধ্যায়ে ওহী অবতরনের সূচনা ও রাসূল সা. নবুওয়াত লাভ সম্পর্কে তৃতীয় অধ্যায়ে নবুওয়াত লাভের স্থান সময়কাল ও নবুওয়াতের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে দলীল ভিত্তিক বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সর্বোপরি এর দ্বারা কোনো পাঠক সামান্যতম উপকৃত হলে আমার চেষ্টা সার্থক হয়েছে বলে মনে করবো। আল্লাহ আমার এ প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আমীন।
মহানবী (সা.) - এর মি’রাজ
মি'রাজ মহানবী (সা.)-এর জীবনে একটি বিস্ময়কর ঘটনা। যার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং গোপন কিছু বিষয় দেখিয়েছেন ও অবহিত করেছেন। যেটি অন্য কোনো নবী-রাসূলের ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি। মহানবী (সা.) মি'রাজ থেকে তাঁর উম্মতের জন্য অনেক উপঢৌকন ও বিধি-বিধান নিয়ে আসেন, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অমূল্য সম্পদ। এ মি'রাজ সম্পর্কে অনেক আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। গ্রন্থটিতে মি'রাজের পরিচিতি, উদ্দেশ্য, প্রেক্ষাপট, ঘটনা ও শিক্ষা উল্লেখসহ কুরআন ও হাদিসের আলোকে মি'রাজের বাস্তবতা এবং বিভিন্ন সমালোচন-ার জবাব দেয়া হয়েছে।
মহানবী (সা.) - এর মক্কা বিজয়
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা -এর পবিত্র জীবন মানবজাতির ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির আদর্শ। কুরআন মজিদে আল্লাহ তায়ালা সামগ্রিক পরিচয়ে তাঁকে সম্মানিত করেছেন 'রহমাতুল্লিল আলামি-ন'-'বিশ্বজগতের জন্য রহমত' রূপে। মহানবীর হাদিস বা সুন্নাহ কুরআন মজিদেরই প্রতিফলন ও ব্যাখ্যা-ভা-য্যস্বরূপ। রাসূল -এর জীবন-দৃষ্টি ও আচরণমালাকে সংক্ষেপে 'মানবতা' বলা হয়। তবে আমাদের পরিভাষায় মাপকাঠিতে তাঁর মানবতার পরিমাপ প্রচেষ্টা সঠিক নয়, সুতরাং উচিতও নয়। রাসূলুল্লাহ -এর আদর্শের মানবিক দৃষ্টিকোণ ও এর বাস্তবতাকে মানবসৃষ্ট, একান্তই জাগতিক, বুদ্ধি-জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা ও অনিবার্য ভুল-ভ্রান্তি-বিচ্যুতি সাপেক্ষ 'মানবতা' থেকে অবশ্যই পৃথকভাবে দেখা প্রয়োজন। স্রষ্টার দান ও মানুষের মেধার ফসলকে এক পাল্লায় পরিমাপের যেকোনো প্রচেষ্টা অবিবেচনাপ্রসূত। মূল্যায়ন পর্বে অন্যান্য মতবাদের সাথে এর তুলনা-যাচাই চলবে না, এমন নয়। সত্য ও সুন্দরকে অবশ্যই দেখেশুনে নিতে আপত্তি থাকবে না। তবে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ এ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির চিন্তা-ভাবনায় প্রেক্ষিত হিসেবে এ আদর্শের সরাসরি স্রষ্টা-সূত্রটি উজ্জ্বল থাকলে সত্যান্বেষা সহজতর হবে।
মহানবী (সা.) - এর ইবাদত সালাত , যাকাত , সাওম ও হজ্জ
রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ইবাদত সালাত, যাকাত, সাওম ও হজ্জ: এটি মুসলিম জাতির মৌলিক ইবাদত সম্বলিত একটি তথ্যসমৃদ্ধ 'সীরাতুন নবী (সা)' বিষয়ক গ্রন্থ। এটি পাঁচটি অংশে বিভক্ত। প্রতিটি অংশে ইসলামের প্রধান ইবাদতসমূহ সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। বিশেষত সালাত, যাকাত, সাওম ও হজ্জ। ইসলাম একটি চিরন্তন ও সার্বজনীন ধর্ম। আল্লাহ তা'আলা মানবজাতিকে একমাত্র তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং মানুষের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য হলো ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা। পৃথিবীতে মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধিত্বের সুমহান ও বিরাট দায়িত্ব পালন করার লক্ষ্যে তার ইবাদত করতে বাধ্য। ইসলামের ফরয ও মৌলিক ইবাদতের মধ্যে সালাত আল্লাহর নৈকট্য লাভের সবচেয়ে বড় মাধ্যম এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সালাত এমন একটি ইবাদত যা ঈমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য করে। গ্রন্থটিতে বিশুদ্ধভাবে সালাত আদায়ের নিয়ম-কানুনসমূহ রাসুলুল্লাহ (সা)-এর হাদীসের মাধ্যমে বর্ণনা করা হয়েছে। ফরয, সুন্নাতুল মুআক্কাদা, সুন্নাত ও নফল সালাতের সাথে সাথে জুমু'আ, তারাবীহ, ঈদ ও জানাযার সালাতের আলোচনা বিধৃত হয়েছে। যাকাতের মাধ্যমে সম্পদ পবিত্রতা লাভ করে। সম্পদশালী ব্যক্তির যাকাত আদায়ের মাধ্যমে সমাজে দারিদ্র বিমোচন হয়। কতটুকু সম্পদ হলে যাকাত প্রদান করা ফরয হয়, যাকাতের শর্তাবলী, নিসাব, ফসলের যাকাত বা উশর, চতুষ্পদ জন্তুর যাকাত, যাকাত ব্যয়ের খাতসমূহ বিষয়ে বর্ণনা প্রদান করা হয়েছে। সাওমের ইতিহাস অতি প্রাচীন। এতে ফরয সাওম, বিভিন্ন দিবসের সাওম, সাহরী, ইস্তার, ইতিকাফ, লায়লাতুল কদর ও সাদাকাতুল ফিত্র বিষয়ে দলীল ভিত্তিক বর্ণনা প্রদান করা হয়েছে। সর্বশেষে হজ্জের বিধানাবলী ও হজ্জের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। উপর্যুক্ত বিষয়সমূহ কুরআন, হাদীস, ফিক্সহ মৌলিক গ্রন্থাবলি থেকে উদ্ধৃতি ও সূত্র প্রদান করা হয়েছে। যা গ্রন্থাবলি বিশুদ্ধতার দিক থেকে অনন্য, অসাধারণ ও গবেষণার মানে উপনীত হয়েছে বলে দৃঢ়চিত্তে বলা যায়। গ্রন্থটি পাঠক মহলে বিশেষ করে গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সকল শ্রেণির সীরাতুন নবী (সা) পাঠক প্রেমিকদের নিকট গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠিতে উপনীত হবে বলে আশা ব্যক্ত করা যায়।
মহানবী (সা.) - এর পত্রাবলী
রাসুলুল্লাহ সা.-এর পত্রাবলী শুধুই একটি গতানুগতিক বিষয় হিসেবে সাব্যস্থ করা যায় না বরং এটি সকল সম্রাজ্যপতি থেকে শুরু করে প্রত্যেক সম্রাজ্যের সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন আচার-আচরণ, চলাফেরা, মু'আমালাত, মু'আশারাত সকল কার্যাবলীতে প্রাধান্য পেয়েছে। এ সব কিছুর সমষ্টি হলো রাসূল সা.-এর মহান পত্রবলী। বিশেষকরে শাসকগণ তাঁর আদর্শে অভিভূত হয়ে প্রজাদের প্রতি উত্তম আচরণ ও উন্নত জীবনের সকল কর্যাবলীতে বিচরণ করতে সহজ হয়েছে। যা একমাত্র মহানবী সা.-এর আদর্শগত কারণের সম্ভব হয়েছিল। এটি সমগ্র মানুষকে মানবেতর জীব থেকে উ'চতর আসনে প্রতিষ্ঠিত করে। যা উন্নত জাতীর জীবনী শক্তি। একটি জাতীর নৈতিক চরিত্র অক্ষুন্ন থাকলে সে জাতী পৃথিবীর বুকে টিকে থাকতে পারে। এর ব্যতিক্রম হলে শুধু জাতী নয় বরং সমগ্র দেশ ধ্বংশের কাটগোড়ায় পৌছে যায়। হযরত মুহাম্মাদ সা. ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী। তাঁর নবুওয়াতী জীবনের প্রথম দশক মক্কার অসীম মরুময় প্রন্তরে কাটে। সেখানে তিনি পথভ্রষ্ট মানুষদের ইসলামের দিকে আহ্বান করার ফলে মক্কার কাফির-মুশরিক দ্বারা তিনি ও তাঁর সাহাবীগণ নানা রকম কঠোর নির্যাতনের শিকার হন। রাসূল সা. ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে আল্লাহর হুকুমে মদীনায় হিজরত করে এখানেই ইসলামী হুকুমত শক্ত হাতে প্রতিষ্ঠা করেন। যার ফলে বহির্বিশ্বে বৃহত্তর পরিসরে অমুসলিমদের নিকট ইসলামকে প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। বিশ্ব দরবারে ইসলামকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে মহানবী সা. বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে ইসলামের দাওয়াত সংবলিত পত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সমর্থ হন। এরই ফলশ্রুতিতে ৭ম হিজরী সনের শুরুর দিকে রোম, পারস্য, মিসর, আবিসিনিয়া, বাহরায়ন, ওমান, ইয়ামান, সিরিয়া প্রভৃতি দেশের বাদশা, রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিভিন্ন অঞ্চলের গোত্রপ্রধানদের নিকট ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তাঁর স্পেশাল দূত মাধ্যমে অসংখ্য পত্র হস্তান্তর করেন। রাসূলুল্লাহ সা.-এর এ সব পত্রের ভাব, ভাষা, আলংকারিক দিক ও উপশাপনার অনন্যতা সকলের নিকট এতটাই হৃদয়গ্রাহী ও আকর্ষণীয় হয়েছিল যে, তাঁর এই পত্রের আহ্বানে অধিকাংশ রাজা-বাদশা অভিভূত হয়ে রাসূলের হাতে বায়াত গ্রহণ করেন। বস্তুত ইসলামের প্রচার ও প্রসারে রাসূলুল্লাহ সা.-এর ঐতিহাসিক এসব পত্রসমূহের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ইতিহাসের প্রাচীন গ্রসমূহে রাসূলুল্লাহ সা.-এর এসব পত্রাবলী সংরক্ষিত আছে।
ইসলাম প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.) - এর কালজয়ী সংগ্রাম
ইসলাম প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর কালজয়ী সংগ্রাম ইসলামের এক গুরুত্বপূর্ণ বিধান। কুরআনুল কারীমের বিস্তৃত স্থান জুড়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর কালজয়ী সংগ্রাম ফি সাবিলিল্লাহর কথা উল্লিখিত হয়েছে। আল কুরআনের ৩৩টি স্থানে সরাসরি জিহাদের কথা রয়েছে। এ ছাড়াও আরো বিভিন্নস্থানে প্রাসঙ্গিকভাবে আলোচনা এসেছে। হাদীসে নববীর বিশাল অংশজুড়ে জিহাদের সুবিস্তৃত বিবরণ স্থান পেয়েছে। এসব বর্ণনা থেকে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর কালজয়ী সংগ্রামের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করা যায়।
মহানবী (সা.) ও তাঁর সাহাবীদের জীবন সাধনায় কালজয়ী সংগ্রাম ছিল এক অপরিহার্য অঙ্গ। কালজয়ী সংগ্রাম প্রেরণায় উদ্ভাসিত ছিল তাঁদের মহান জীবন চরিত। এসব কারণে প্রতিটি মুমিনের জন্য কালজয়ী সংগ্রাম এক আবশ্যকীয় দায়িত্ব।
আল্লাহর পথে কালজয়ী সংগ্রামের উত্তম আদর্শ ছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। ইসলাম প্রতিষ্ঠায় তিনি আমরণ সংগ্রাম করে গেছেন। মানবতার কল্যাণে মহানবী (সা.) যে কালজয়ী সংগ্রাম শুরু করে গেছেন, কেয়াতম পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। মুমিন-মুসলমানের দায়িত্ব হচ্ছে কালজয়ী সংগ্রামের সে ধারাকে অব্যাহত রাখা। আলোচ্য গ্রন্থে কুরআন হাদীস ও ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের আলোকে কালজয়ী সংগ্রামের ওপর নাতিদীর্ঘ আলোচনা উপস্থাপন করা হয়েছে।
মহানবী (সা.) ও সাহাবীদের হিজরত হাবশা ও মদীনায়
হিজরত ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য ঘটনাসমূহের অন্তর্ভুক্ত। হিজরতের মাধ্যমেই মুসলমানরা মক্কার কাফির-মুশরিকদের অত্যাচার-নির্যাতন থেকে মুক্তি লাভের পাশাপাশি প্রভৃত সম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি, আরাম-আয়েশ ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য লাভ করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'যারা অত্যাচারিত হয়ে আল্লাহর পথে হিজরত করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে দুনিয়াতে উত্তম ঠিকানা দান করব।' (সূরা আন্-নাহল, ১৬:৪১)
আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশে মুসলমানরা সর্বপ্রথম হাবশায় এবং পরবর্তীতে মদীনায় হিজরত করেন। হিজরতের সুদূরপ্রসারী ফলাফল মুসলমানদের জীবন ব্যবস্থাকে আমূল পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হিজরতের সময়কে ভিত্তি করেই পরবর্তীতে হিজরী বর্ষের সূচনা হয়। আর হিজরী সনের সাথে মুসলিম উম্মাহর রয়েছে মৌলিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক। মোটকথা, হিজরতের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে মুসলমানদের জন্য রয়েছে বহু শিক্ষণীয় বিষয়।
গ্রন্থটিতে হিজরত সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করার প্রয়াস চালানো হয়েছে। শিরোনাম ও অধ্যায় বিন্যাসের ক্ষেত্রে গ্রন্থটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। প্রামাণিক তথ্য ছাড়া গ্রন্থের কোথাও ব্যক্তিগত অভিমত ও আবেগকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি। এরূপ স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যের কারণে গ্রন্থটি পাঠক সমাজের নিকট আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
মহানবী (সা.) - এর ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল
মুসলমানদের নাম-নিশানা ভূপৃষ্ঠ থেকে চিরতরে মুছে ফেলার জন্য মক্কার কাফির কুরাইশদের নেতা আবু জাহল একহাজার সশস্ত্র সৈন্য নিয়ে রওনা হয়ে মদিনা থেকে ৮০ মাইল দূরে বদর নামক একটি কূপের কাছে গিয়ে পৌঁছে। এদিকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য বিপুল অস্ত্র ও রসদসম্ভার নিয়ে সিরিয়া থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলো আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বাধীন একটি বাণিজ্যিক কাফেলা। উক্ত কাফেলার সন্ধানে ৩১৩ জন সাহাবীকে নিয়ে বের হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লামও বদর প্রান্তরে পৌঁছলে উভয় পক্ষের মধ্যে ঘোরতর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এটিই ইতিহাসখ্যাত বদর যুদ্ধ, যা ছিল কাফেরদের বিরুদ্ধে পরিচালিত মুসলমানদের প্রথম সশস্ত্র ও সফল যুদ্ধ। এ যুদ্ধের পটভূমি, ঘটনা প্রবাহ ও ফলাফল নিয়ে রচিত হয়েছে এ গ্রন্থখানি।
মহানবী (সা.) - এর যৌবন ও ব্যবসা- বাণিজ্য
এটি একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ। মানব জীবনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণের বিকল্প নেই। আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি, জাগতিক কল্যাণ ও পরকালীন মু ক্তি পেতে হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করতেই হবে। আল্লাহ তা'আলার বাণী-
. قل ان كنتم تحبون الله فاتبعوني يحببكم الله ويغفر لكم ذنوبكم والله غفور رحيم 'হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলুন! তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ করো। আল্লাহ তোমাদেরকে ভালো বাসবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু,। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পেতে হলে তার জীবনী ও জীবন আদর্শ অনুসরণ-অনুকরণ করতেই হবে, যার ফলে আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম -এর জীবন কেন্দ্রিক পঠন পাঠন ও অধ্যয়ন। এরই আলোকে 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর যৌবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য, শিরোনামে আটটি বিষয় নিয়ে গ্রন্থ রচনা করা হলো।
১. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যৌবনকাল।
২. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বক্ষ বিদারণ।
৩. আবু তালেব এর তত্ত্বাবধানে শিশু মোহাম্মদ।
৪. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মেষপালণ।
৫. আবু তালেব-এর সাথে সিরিয়া গমন ও পাদ্রির সাথে সাক্ষাৎ।
৬. ফিজারের যুদ্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম এর অংশগ্রহণ।
৭. হিলফুল ফুযূল।
৮. খাদিজার ব্যবসায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তত্ত্বাবধান।
এ গ্রন্থটি অধ্যায়ন করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শৈশবকাল তথা প্রাথমিক জীবন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে যা অন্যান্য নবী-রাসূলদের জীবনীতে পাওয়া যায় না। গ্রন্থটি পড়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন।
মহানবী (সা.) - এর বিবাহ ও দাম্পত্য জীবন
প্রতিটি মানুষ অন্য এক সফল ব্যক্তিকেই অনুসরণ করতে চায়, যা মানব প্রকৃতির অন্যতম চাহিদা। আর এভাবেই চলে আসছে মানব-ইতিহাসের সূচনা লগড়ব থেকে। তবে প্রযুক্তির এ জাগরণে মুসলিম নারীদের জীবনাদর্শে নতুনত্ব আসতে থাকে। তারা নিজেদের ঐতিহ্য, জীবনাদর্শ ভুলে প্রগতিশীতলতায় আসক্ত হয়ে বস্তুবাদকে লুফে নিচ্ছে। সফল ও স্মার্ট আদর্শ হিসেবে কাফের-মুশরিকদের অনুসরণ করে যাচ্ছে। অথচ প্রতিটি মুসলিম নারীর জীবনকে সফল করতে আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীতে কতো সম্মানী ও আদর্শিক নারীর আবির্ভাব ঘটিয়েছেন। তাদের মাঝে মুহাম্মদে আরবি সাঃ-এর প্রথম স্ত্রী আরবের শ্রেষ্ঠ ও সম্মানী নারী খাদীজাতুল কুবরা রাদিআল্লাহু হলেন নারী আদর্শের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁকে জানা, তাঁর আদর্শে উজ্জিবীত হয়ে প্রতিটি মহিলার নিজেদের জীবন গড়ে তোলা অপরিহার্য বটে। কেননা চলমান শতাব্দীর মুসলিম নারীরা প্রতিনিয়ত নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ইসলামী তাহযিব তামাদ্দুন পরিহার করে মনগড়া মতাদর্শ, হিন্দুয়ানী এবং পশ্চিমা সংস্কৃতি ধারণ করছে। অথচ তাদের সামনে উম্মুল মু'মিনীনদের আলোকিত জীবনাদর্শ তারার মতো ঝলমল করছে। ফুলের মতো প্রস্ফুটিত হয়ে আছে উম্মম্মুল মু'মিনীন খাদীজাতুল কুবরা (রা.)। তিনি কেমন ছিলেন? কোন আদর্শ আর ব্যক্তিত্ব তাঁকে সবার থেকে আলাদা করেছে? তাঁকে নিয়ে গবেষণার অজস্র পাণ্ডুলিপি তৈরি হয়েছে? এসবের বিস্তারিত ও গবেষণাসিক্ত আলোচনার এ মলাট আপনাকে নতুন কিছু উপহার দিতে বদ্ধ পরিকর।