কমল বহু জায়গায় ইন্টারভিউ দিয়ে দিয়ে ক্লান্ত| ঢাকা শহরে টিউশনি করে এবং বন্ধুর মামার বাড়ি দেখভাল করে কোনোরকমে দিনাতিপাত করছিল| আর দশজন মানুষের মতো সেও ভালোবেসে সংসার করতে চেয়েছিল| কিন্তু নিয়তি তাকে বাদসাধে|
অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই মজুমদার এন্ড মজুমদার কোম্পানি লিমিটেডে পুঁথি সংগ্রহশালায় চাকরি পায় সে| কিন্তু তার কাছে কেন যেন মনে হতে থাকে তাকে টার্গেট করেই চাকরিটা দেওয়া হয়েছে| সে তখন উপলব্ধি করতে থাকে এদেশ একসময় জমিদারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল| তারা তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করতো| ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে তারা বিভিন্ন তন্ত্র-মন্ত্র করতো| পুঁথি সংগ্রহশালায় পুঁথির মাধ্যমে জমিদারদের এই দুরাভিসন্ধির কাহিনী পড়ে আরও সে নিশ্চিত হয় যে, জমিদারদের বংশধরেরা এখনও থেমে নেই| তারা তাদের ক্ষণপদ প্রসারিত করার সুযোগ খুঁজছে| সেই থেকেই তার এগিয়ে চলা| অবশেষে একসময় সে বুঝতে পারে কেন তারা কমলকেই নিয়োজিত করেছে চাকরিতে| নিয়তিই এর জন্য দায়ী| নিয়তি তাকে এতদূর এগিয়ে এনেছে| তাই সে পুনর্জন্ম লাভ করে এই পৃথিবীতে এসেছে| তার দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের সমস্ত রাস্তা সে বন্ধ করে দিতে বদ্ধপরিকর| প্রায় পুরো উপন্যাসটিই কারো না কারো স্মৃতি কথকতায় এগিয়ে চলে, উঠে আসে কমলের নিয়তি নির্ধারিত রহস্যময় সময়ের অদ্ভুত পরিণতি|
এই উপন্যাসের নায়ক কোনো ব্যক্তি নয়— সময়| এই সময়ের এক সংবেদী রূপকার, শক্তিমান কথাশিল্পী শেখ কবিরুল ইসলাম তাঁর অনুপম সজীব নির্বিকল্প গদ্যে বিবিধ আখ্যানের আলোকে এঁকেছেন বিরাট একসময়ের ছবি, ¯^ল্প পরিসরে নিয়ে এসেছেন বিশাল ব্যাপ্তি| জাদু বিস্তারি বর্ণনায় তিনি সাজিয়েছেন মানুষের নিভৃত ও অন্তর্নিহিত কিছু মুহূর্ত, সেই সঙ্গে এঁকেছেন অস্থিমজ্জায় জাগরুক মানুষের মনোজাগতিক অস্তিত্বকে, আমরা প্রতিনিয়তই তার গন্ধ পাই, আলো পাই, শব্দ শুনি|