মাওলানা রুমি, হাফিজ শিরাজি, মীর তকি মীর ও মির্জা গালিব—ফার্সি ও উর্দু কবিতার শ্রেষ্ঠ নাম। অনেক বছর হলো তারা মারা গেছেন। কিন্তু বহুদূরের নক্ষত্রের মতো শত জোছনার মাধুরী হয়ে আজো তাদের আলো আমাদের হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়। মধুর ছন্দ আর অনিন্দ্য শব্দের মোড়কে আনন্দ ও বেদনার যে অনুভূতি লিখে গেছেন তা বইয়ের পাতা থেকে মানুষের মুখে মুখে সুর ও কথা হয়ে বেঁচে আছে শতাব্দীর পর শতাব্দী। এর মধ্যে ভেঙে পড়েছে কত সভ্যতা, মুছে গেছে কত রাজরাজাদের নাম। যুগ-যুগান্তরে শুধু রয়ে গেছে কবি ও কবিতা। বহুকাল পেরিয়ে বহুদেশ মাড়িয়ে ইথারে ছড়িয়ে পড়েছে রুমি ও গালিব।
আলোচিত এই চারজন কবি প্রত্যেকেই ভিন্ন সময়ের ও ভিন্ন ভাষার। তেমনি ভিন্ন তাদের আনন্দ ও বিরহ। কিন্তু তাদের শের ও গজল পড়লে মনে হয়, তারা যেন একে অপরের সঙ্গে কথা বলছেন—প্রেম নিয়ে, খোদার সাথে মানুষের সম্পর্ক নিয়ে। এখানে আছে সৃষ্টির রূপকে স্রষ্টার প্রেমে মাতাল হওয়ার আকুতি। আছে জীবনের বহুমাত্রিক রঙ ও বিচিত্র বেদনার কথা।
সায়ীদ উসমানের অনুবাদে এই চার কবির নির্বাচিত কবিতা নিয়ে সাজানো হয়েছে ‘মজলিস-ই শায়েরি’। মাওলানা রুমি ও হাফিজ শিরাজির কবিতায় আছে প্রেমের আড়ালে বিশ্বজোড়া আধ্যাত্মিক তৃষ্ণার কথা। সাকি আর পেয়ালার রূপকে এক গভীর জীবনবোধ। এইতো হাজার বছরের পারস্য সংস্কৃতি। মীর তকি মীর ও মির্জা গালিবের কবিতায় আছে উর্দু গজলের সেই সুর, যার বেদনা গিয়ে বিঁধে পাঠকের বুকে। আছে দর্শন ও বিষাদ। আর চিরাচরিত পরিহাস।
গুণী অনুবাদক সায়ীদ উসমানের শৈল্পিক অনুবাদে পাঠক আনন্দ-বিহার করবেন বিশ্বসাহিত্যের কালজয়ী চার কবির ভুবনে। সমৃদ্ধ হবেন আনন্দ ও বিষাদে। দর্শন ও প্রজ্ঞায়।
মির্জা আসাদুল্লাহ খান গালিব ছিলেন উর্দু ও ফারসি ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ও সাহিত্যিক। তাঁর জন্ম ১৭৯৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর, ভারতের আগ্রা শহরে। অল্প বয়সেই তিনি পিতামাতাকে হারান এবং পরে দিল্লিতে বসবাস শুরু করেন।
গালিব মূলত গজল রচনার জন্য বিখ্যাত। তাঁর কবিতায় প্রেম, বেদনা, দর্শন ও জীবনের গভীর চিন্তা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি Mughal Empire-এর শেষ যুগ এবং ব্রিটিশ শাসনের সূচনালগ্নের সময় জীবিত ছিলেন, যার প্রভাব তাঁর লেখায় স্পষ্ট।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে “দেওয়ান-এ-গালিব” (উর্দু কবিতার সংকলন) এবং ফারসি ভাষায় অসংখ্য কবিতা। জীবদ্দশায় তিনি তেমন স্বীকৃতি না পেলেও মৃত্যুর পর তিনি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
মির্জা গালিব ১৮৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লি শহরে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম আজও উর্দু সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।