আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, এটি বাংলাদেশে এগ্রো ট্যুরিজম নিয়ে লেখা প্রথম পূর্ণাঙ্গ বই| আর এই ‘প্রথম’ হওয়ার সঙ্গে একটা বড় দায়িত্বও জড়িয়ে আছে| আমরা চেষ্টা করেছি কোনো ফাঁপা প্রতিশ্রুতি না দিতে, কোনো রঙিন স্বপ্ন বিক্রি না করতে|
আমাদের প্রথম বই ‘শূন্য থেকে কৃষি উদ্যোক্তা’তে আমরা শিখিয়েছিলাম, সততাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা| সেই একই সততা নিয়ে আমরা এই বইটাও লিখেছি| এখানে শুধু সাফল্যের গল্প নেই, আছে ব্যর্থতার কথা, চ্যালেঞ্জের কথা, কষ্টের কথাও| কারণ আমরা চাই না আপনি ভুল ধারণা নিয়ে এই পথে নামুন|
আমরা চাই, আপনি পুরো সত্যটা জেনে, প্রস্তুত হয়ে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শুরু করুন| এই সততার প্রতিশ্রুতিই আমাদের কাছে এই বইয়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব|
পাঠক এই বই থেকে কী পাবেন
এই বইটা শুধু একটা অনুপ্রেরণার বই নয়, এটা একটা ব্যবহারিক রোডম্যাপ| আমরা চেয়েছি, এই বই পড়ে একজন মানুষ যেন শুধু স্বপ্ন না দেখে, বরং সেই স্বপ্ন বাস্তব করার পথটাও খুঁজে পায়|
বই জুড়ে আপনি ধাপে ধাপে পাবেন এগ্রো ট্যুরিজম কী আর কেন এখনই সময়, পৃথিবীর নানা দেশ কী শিখিয়েছে, কীভাবে একদম শূন্য থেকে শুরু করবেন, কী কী চ্যালেঞ্জ আসবে আর কীভাবে সামলাবেন, কীভাবে একটা টেকসই ব্যবসায়িক মডেল দাঁড় করাবেন, কীভাবে অতিথির জন্য অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা ডিজাইন করবেন, কীভাবে গ্রাম থেকে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছাবেন আর কীভাবে এই স্বপ্নটা ছড়িয়ে দেবেন গোটা বাংলাদেশে| প্রতিটি অধ্যায়ে থাকবে বাস্তব গল্প, বাস্তব সংখ্যা আর হাতে-কলমে কাজে লাগানোর মতো পরামর্শ|
আমরা প্রতিটি অধ্যায় শুরু করেছি একটা গল্প দিয়ে, শেষ করেছি একটা গল্প দিয়ে| কারণ আমরা বিশ্বাস করি, মানুষ তথ্য মনে রাখে না, গল্প মনে রাখে| আর এই গল্পগুলোর প্রতিটিই সত্যি— সুখের খামারের মাটি থেকে উঠে আসা|
একটা সময় ছিল, যখন আমার মনে হতো রাগ জীবনের সবচেয়ে দরকারি বিষয়। এটি ছাড়া যেন জীবনে কোনো কিছুতেই মূল্যায়ন পাওয়া সম্ভব নয়। মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন চর্চা শুরুর পরপরই বুঝলাম, আমার চোখে এত দিন কাঠের চশমা ছিল। এরপর ভালো লাগা থেকে মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন অ্যাডভান্স লেভেল শেখা ও চর্চা করা শুরু করলাম। আস্তে আস্তে নিজের মনের উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়লো। উপলব্ধি করতে পারলাম, আমার আশপাশের মানুষগুলোর মধ্যে যে সম্পর্কজনিত সমস্যা, পেশাগত সমস্যা, শারীরিক এবং মানসিক সমস্যা এসবেরই উৎস হচ্ছে রাগ, ভয় এবং অহংকার। তখন আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ, আমার অর্ধাঙ্গিনীকে (আফসানা মিনা) তার মনের উপর দখল আনতে সহযোগিতা করা শুরু করলাম। এই কাজে সফল হওয়ার পর আমার উপলব্ধি হলো—এটিই আমার জীবনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। এখন মানুষকে সুখী হতে উৎসাহিত করা এবং সেই শিক্ষাদান করাই আমার জীবনের উদ্দেশ্য। আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেকের জীবনের বর্তমান মুহূর্তটি সুখের হলে তাঁর পুরো জীবনটাই শান্তিময় এবং কল্যাণকর হয়ে উঠবে। আমি জোবায়ের রুবেল। একজন মোটিভেশনাল লেখক, মাইন্ডফুলনেস টিচার, পিআর কনসালট্যান্ট এবং উদ্যোক্তা। আমি ‘সুখের স্কুল’ (www.sukherschool.com) এর প্রতিষ্ঠাতা। এ প্রতিষ্ঠানটি দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের আলোকে মাইন্ডফুলনেস চর্চার বিজ্ঞানসম্মত কনটেন্ট প্রদান করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করচ্ছে। ‘স্টোরিটেলার’ (www.storyteller.team) নামে একটি পিআর এজেন্সিরও প্রতিষ্ঠাতা আমি। এ প্রতিষ্ঠানটি পজিটিভ পাবলিক রিলেশনস নিয়ে কাজ করে। মনে রাখবেন, সুখী হতে পারাটা একটি দক্ষতা এবং এটি শেখা যায়। আরও জানতে: www.jobairrubel.com